কল্যাণ ডেস্ক
মাত্র ২৫-৩০ সেকেন্ডে একটি চাবি দিয়েই ঘাড় লক খুলে যেকোনো মোটরসাইকেল চুরি করতে দক্ষ মো. জাকারিয়া হোসেন হৃদয়। তিনি একটি মোটরসাইকেল চোর চক্রের প্রধান।
সম্প্রতি হবিগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালিয়ে জাকারিয়া হোসেন হৃদয়কে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশের সংঘবদ্ধ অপরাধ গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন মডেলের ১২টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, গত ১০ মে ভাটারা থানায় একটি মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত মামলা হয়। সেই মামলার ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে ডিবির হাতে গ্রেফতর হন সংঘবদ্ধ চোরচক্রের প্রধান জাকারিয়া। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছে। এই চক্র মাত্র ২৫-৩০ সেকেন্ডে শপিংমলের সামনে থেকে মোটারসাইকেল চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরির কাজটি করতে তারা একটি মাস্টার চাবি ব্যবহার করে। এই চাবিটি ব্যবহার করে মাত্র ২৫-৩০ সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের ঘাড় লক ভেঙে সেটি চালু করে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ চক্রে জাকারিয়া ছাড়া বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছে। বাকিরা পলাতক। তারা হলো- জাহাঙ্গীর, জিতু, ইকবাল, খালেক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে বিভিন্ন সময় শপিংমলের সামনে থেকে মোটরসাইকেল চুরি হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা হয় না। তবে যমুনা শপিংমলের সামনে থেকে কালো রঙের বাজাজ মোটরসাইকেলটি চুরি হওয়ার পর মালিক মামলা করেন।
মামলাটি হওয়ার পর আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। ঐ মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের জন্য আমরা হবিগঞ্জে বন্ধু মটরসের গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানের সময় গ্যারেজের মালিক মোহন পালিয়ে যায়। তবে চোর চক্রের প্রধান জাকারিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
হারুন-অর রশীদ বলেন, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে এই চক্র জড়িত। সুমন এই চক্রের রেকি সদস্য। সে বিভিন্ন শপিংমলের সামনে গিয়ে মোটরসাইকেল রেকি করে।
মালিক মোটরসাইকেল রেখে শপিংমলের ভেতরে যাওয়ার পর অন্য সদস্যদের সে জানায়। এই তথ্য পাওয়ার পর জিতু ও জাহাঙ্গীর মাস্টার চাবি দিয়ে মোটরসাইকেলটি চালু করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে চক্রের সদস্য খালেক ঐ মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধু মটরসের মালিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। পরে বন্ধু মোটরসের মালিক ৫০-৬০ হাজার টাকায় আবার বিক্রি করে দেয়।
তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেল সবসময় পার্কিংয়ে পার্ক করবেন। এরপরও চুরি হলে জিডি নয়, মামলা করবেন। কোনো কারণে থানা মামলা নিতে না চাইলে ডিবি অফিসে অভিযোগ করবেন।
আরও পড়ুন: প্রাইভেটকারে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বিএনপি নেতা চাঁদ
