নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা প্রথম পত্রের মধ্য দিয়ে কাল রোববার সারাদেশের ন্যায় যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে শুরু হচ্ছে ও সমমানের পরীক্ষা। এবছর বোর্ডে সর্বমোট ১ লাখ ৫৮ হাজার ১০২ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দেয়ার কথা রয়েছে। ১০ জেলার ২ হাজার ৫৫১ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসব পরীক্ষার্থী ২৯২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিবে। এদের মধ্যে কারাগারে থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে দু’জন। এদের একজন ঝিনাইদহ এবং আরেকজন নড়াইল কারাগারের হাজতি। এদিকে, দুই বছর পর এবার সংশোধিত ও পুনর্বিন্যাস করা পাঠ্যসূচিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে হবে পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরু হবে সকাল ১০টায়। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দিয়েছে বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, যারা প্রশ্নফাঁসের গুজব রটাবে, ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে। শনিবার দুপুরে ভোলার চরফ্যাশনে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।
অন্যদিকে, গতবারের তুলনায় এ বছর যশোর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ১৪ হাজার। গত দুই বার পাসের হার বেশি হওয়ায় এ বছর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ‘রেকর্ড সংখ্যাক’ কমেছে। আর অনিয়মিত পরীক্ষার্থী কমার কারণেই মূলত এ বছর মোট পরীক্ষার্থী কমেছে বলে মনে করছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৭৮ হাজার ৬৬৯ ও ছাত্রী রয়েছে ৭৯ হাজার ৪৩৩ জন। বিজ্ঞান বিভাগের মোট ৩৯ হাজার ৪৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৯১৭ ও ছাত্রী ১৮ হাজার ৫২০ জন। মানবিক বিভাগের মোট ১ লাখ ৭৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৪৭ হাজার ৭০৩ ও ছাত্রী ৫৩ হাজার ৬২ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মোট ১৭ হাজার ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ৪৯ ও ছাত্রী ৭ হাজার ৮৫১ জন রয়েছে। পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্তভাবে আয়োজনের জন্য ২৩ মে পর্যন্ত যশোরের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরীক্ষাচলাকালীন কোন কোচিং সেন্টার খোলা থাকলে কোচিং সংশ্লিষ্টদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহসান হাবিব বলেন, ‘গত বছর যশোর বোর্ডে এসএসসিতে দেশ সেরা রেজাল্ট করেছিলো। এর আগের বছরে করোনার কারণে অটোপাশ থাকায় কোন ফেলের শিক্ষার্থী ছিলো। ফলে যশোর বোর্ডে যেখানে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থী থাকে ১৫ হাজারের বেশি; সেখানে সবমিলিয়ে বলা যায়, অনিয়মিত পরীক্ষার্থী কমার কারণেই মূলত এ বছর মোট পরীক্ষার্থী কমেছে। তিনি আরো বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছি। গতবার একাধিক কেন্দ্রে এক বিষয়ের প্রশ্ন অন্য বিষয়ের প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া সেটার বিষয়ে গভীরভাবে সর্তক রয়েছি।
