শাহারুল ইসলাম ফারদিন
গত মাসে যশোরে কুকুরের কামড়ে পথচারি, শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ প্রায় ডজন খানেক মানুষ আহত হয়েছেন। পৌর এলাকার ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হাসপাতালে ও স্থানীয় ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলায় কুকুরের কারণে লোকজনকে রাস্তায় বের হলেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার ছয়-সাতজন বাসিন্দারা জানান, কামরুজ্জামান ডবলুর বাড়ির সংলগ্ন আনায়ারা বেগমের চারটি পোষা কুকুর আছে। এছাড়ারও রাজুর মোড়ে ৭/৮টি, গণপূর্ত আবাসিক এলাকায় ১২/১৩টি, খাদ্য অফিসের সামনে ৫/৭টিসহ ঘোপ সেন্ট্রাল রোড ও বউ বাজার এলাকায় প্রায় অর্ধশত কুকুর রয়েছে। কুকুরগুলো হিংস্র। গত একমাসে ১০/১২জনকে কামড় দিয়েছে। সকাল থেকেই ঘুরে বেড়ায় কুকুরের দল। অন্ধকার নামলে এগুলোর উপদ্রব বেড়ে যায়। পথচারীদের রীতিমতো তাড়া করে কুকুরগুলো। যদি কোনো মহল্লায় কোনো অনুষ্ঠান থাকে তাহলেতো কথায় নেই! কুকুরদের দাপাদাপিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিরাই আতঙ্কে ভোগেন।
শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ওই এলাকার অ্যাড. শেখ মাহবুবুর রহমানসহ ব্যাংকার রাফেজা বেগম, মতিয়ার রহমানের ছেলে সাবাব আলী, জায়েদ আলী, রক্তিম, ভিক্ষুক, রিকশাচালক ও পথচারীসহ প্রায় ১২ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় দোকনদ্বার আবু-বক্কর বলেন, ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমরা কুকুর আতঙ্কে রয়েছি। অনেকেই লাঠি হাতে নিয়ে চলাচল করছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি। যারা কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন তাদের অনেকেই হতদরিদ্র। তাদের সংসার পরিচালনা করাই কষ্টকর ব্যাপার। তাদের সরকারিভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি জানাই। রাজনৈতিক নেতা কামরুজ্জামান ডবলু জানান, গত মাসের শুরুতে বাড়ির সামনে থেকে ছোট বোনকে কুকুরে কামড়ায়। তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঢাকায় নেয়া হয়।
এ বিষয়ে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুকসিমুল বারী অপু বলেন, কুকুরের কামড়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। হাইকোর্টের রুল অনুযায়ী কুকুর মারা যাবে না। তবে কুকুরের কামড়ে জলাতাংক যাতে না ছড়ায় সেকারণে কুকুরের উপর ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এবং সেসকল কুকুরকে রং দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যে সকল এলাকায় এখনো বাকি আছে তা খুব তাড়াতাড়ি সমাধান করা হবে। তবে ঘটনা জানার পর সবাইকে সতর্কতার সাথে চলাচলরের জন্য বলা হয়েছে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, পাগলা কুকুরে কামড় দিলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা না নিলে জলাতঙ্ক আক্রান্ত হয়ে পারে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিন দিতে হবে।
আরও পড়ুন:১২ বছর পর র্যাবের হাতে আটক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী বিল্লাল হোসেন
