নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় সদ্যজাত একটি শিশু উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে শার্শা প্রেসক্লাবের পাশে একটি বিচালি গাদার মধ্যে শিশুটিকে পাওয়া যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আকরাম হোসেন বলেন, রাতে প্রেসক্লাবের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিচালি গাদার মধ্যে বাচ্চাটিকে নড়াচড়া করতে দেখি। এ সময় এলাকার মানুষের সহযোগিতা নিয়ে প্রথমে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করি এবং পরে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের কাছে ঘটনাটি জানাই। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
আকরাম আরো বলেন, কে বা কারা একদিন বয়সী এই শিশুটিকে এখানে ফেলে রেখে গেছে। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের যতদিন না পাওয়া যায়, ততদিন তিনি শিশুটিকে লালন পালন করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি তাকে কোলে নিয়ে মাতৃত্বের পরশ দিয়েছেন।
শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, গত শনিবার জন্মাবার পর শিশুটিকে বিচালির গাদায় রেখে যায় অজ্ঞাতরা। রাতে পুলিশ উদ্ধার করে। রোববার ছয়জন নিঃসন্তান দম্পত্তি এ শিশুটিকে পাওয়ার আবেদন করে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, শার্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ছয়জনেরই ইন্টারভিউ নেয়া হয়। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। শিশুটির নামে ১০ শতক জমির দলিল রেজিস্ট্রি করানোর প্রতিশ্রুতি নেয়া হয়। আজ সোমবার দলিল রেজিস্ট্রি হবে মর্মে পরিবারটি মুচলেকা সম্পাদন করেন। শিশুটিকে অভ্যর্থনা জানাতে বাবা-মার পাশাপাশি দাদা ও নানাও আসেন। তাৎক্ষণিক শিশুটির দাদা তার নাম রাখেন আব্দুর রহিম।
তিনি আরোও বলেন, মহান আল্লাহ সকল শিশুর হেফাজতকারী। মায়ের কোলে যতেœ থাকুক আব্দুর রহিম। তার সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করি।
এ বিষয়ে শার্শা থানার এসআই সুরঞ্জিত জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। যেহেতু শিশুটি এক দিন বয়সের তাই প্রাথমিক অবস্থায় আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের কাছে লালন পালনের জন্য রাখা হয়েছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির প্রকৃত অভিভাবক খুঁজে না পাওয়ায় দত্তক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।