কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
কেশবপুরে চাঁদা না দেয়ায় তমাল হোসেন মিন্টু নামে এক ঘের ব্যবসায়ীকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলার গড়ভাঙ্গা এলাকার ১০৬ নং গড়ভাঙ্গা মৌজার আনুমানিক ১২০ বিঘা খড়িলার বাঁওড়টি দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকায় চাষাবাদ করতে না পেরে জমির ১১২ জন মালিক মৎস্য চাষের জন্য গত মার্চ মাসের ৬ তারিখে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য ডিডের মাধ্যমে মণিরামপুর উপজেলা হাসাডাঙ্গা গ্রামের তমাল হোসেন মিন্টুকে লিজ দেন। বাঁওড়টি মৎস্য চাষের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে পাড় বাঁধানো ও মাছ ছেড়ে প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন তিনি। কিন্তু বাঁওড়টি ইজারা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ঘের ব্যবসায়ী তমাল হোসেন মিন্টু। মণিরামপর উপজেলার বাটবিলা গ্রামের আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না দেয়ায় আলমগীর হোসেন মামলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ঘের দখলের হুমকি দিতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় বুধবার গভীর রাতে আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীর হোসেন, হাসেম আলী, ফকরুল হোসেন, রওশন আলী, আব্দুস সামাদ, মতিয়ার রহমান, উত্তম কুন্ডু, গোপাল মন্ডলসহ একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খড়িলার বাঁওড়ের কয়েকটি টোং ঘর, মেশিন ভেঙ্গে দিয়ে ২ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে ঘেরের পাহারাদার ও ঘের মালিককে হামলাকারীরা আটকে রেখে টানা জাল, বেড়জাল ও খেপলা জাল দিয়ে ৫ লক্ষাধিক টাকার প্রায় ৫০ মণ সাদা মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেশবপুর থানায় মামলার আবেদন করা হয়েছে।
ইজারাদার তমাল হোসেন মিন্টু বলেন, দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে আলমগীর হোসেন ইতিমধ্যে টংঘর ভেঙ্গে ও মাছ লুট করে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে। জমির মালিকদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ভুয়া ডিড তৈরি করে ঘের দখলের চেষ্টা করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বানোয়াট অভিযোগ করে হয়রানি করছে। এ সব অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে তারাই উল্টো আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ দিয়ে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা আমি পাইনি। যে কারণে জমির মালিকদের সাথে নিয়ে মৎস্য চাষ অব্যাহত রেখেছি।
এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন বলেন, মিন্টু যেসব অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
