কল্যাণ রিপোর্ট: যশোরের কেশবপুরের সাবদিয়া গ্রামের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক রাসেল হত্যা মামলায় ২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো কেশবপুরের হাসানপুর গ্রামের মাসুদ হোসেন ও বিষ্ণপুর গ্রামের অহিদ হাসান।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, সাবদিয়া গ্রামের রাসেল হোসেন পড়াশোনার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ২০২১ সালের ১৬ আগস্ট বিকেলে তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হন। রাসেল রাতে বাড়ি ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে স্থানীয় ঘোপসানা রোডে তার মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেলেও রাসেলকে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে চিংড়া ডেপার মাঠ থেকে রাসেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মাজিদ মোড়ল অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম হোসেন তথ্য প্রযুক্তিসহ নানা পন্থায় হত্যার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য মাঠে নামেন। একপর্যায়ে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর ডিবি পুলিশ হাসানপুর ও বিষ্ণুপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে মাসুদ হাসান ও অহিদ হোসেনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথ্যা স্বীকার করে। আটক মাসুদ ও অহিদ খুলনার চুকনগর থেকে রাসেলের মোটরসাইকেল ভাড়া করে ছিনতাইয়ের উদ্দ্যেশে সাগরদাঁড়ি যাওয়ার কথা বলে। পথিমধ্যে কেশবপুরের চিংড়া ডেপার মাঠে পৌঁছালে রাসেলকে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে হত্যাকারীরা তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিচ জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।