চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামের কথিত জ্বীনের কবিরাজ বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গোপন সমস্যা সমাধানের নামে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সম্মানের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই কবিরাজ বিল্লালের প্রতারণার তথ্য দিয়েছেন। এরমধ্যে যশোর শহরের এক ব্যবসায়ীর দাবি, তার কাছ থেকে প্রেমের তদবির দিয়ে কয়েকবারে মোটা অংকের টাকা লুফে নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত ২০১৩ সালের দিকে বিল্লাল হোসেন এমআই দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করেন। বিল্লাল হোসেনের পিতা সন্তোষ পেশায় ছিলেন দিনমজুর। খুব বেশি আবাদী জমি না থাকায় পরের ক্ষেতে কাজ করে সংসার চালাতেন। একদিন হঠাৎ করে এলাকাবাসী জানতে পারেন বিল্লাল হোসেনের জ্বিনে আছর করেছে। তিনি নাকি জ্বিনকে ডেকে ঘাড়ে নিয়ে ভরণে বসে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনছেন আর দোয়া তদবির দিচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরে তার এই প্রতারণা চলছে। গ্রামের মানুষ তাদের কাছে ব্যবস্থা নিতে যান না। এলাকায় বিল্লাল হোসেন ভুয়া কবিরাজ হিসেবে চিহ্নিত। বিগত দিনে তার অপচিকিৎসায় অপচিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিলেন গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহবধূ রেবেকা বেগম। চিকিৎসার নামে সেই নির্যাতন করার ঘটনা এখনও মানুষের মুখে মুখে।
বিল্লালের প্রতিবেশীরা জানান, স্বল্প সময়ে ধান্দাবাজির মাধ্যমে বিল্লাল হোসেন অঢেল ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন। চাটাইয়ের ঘরের পরিবর্তে এখন নির্মান করেছেন ৪টি কক্ষের একটি আলিশান বাড়ি। নিজে পালসার মোটরসাইকেলে চলাফেরা করেন। কবিরাজ হওয়ার পর মাঠে ক্রয় করেছেন ৬/৭ বিঘা জমি। ফু দিয়ে টাকা আয় করে তিনি ভাগ্যের উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ঝাউদিয়া গ্রামের এক নারী জানান, পাশের গ্রাম মানুষ হিসেবে বিল্লাল কবিরাজকে বিশ্বাস করেছিলাম। ভেবেছিলাম তার তদবির ব্যবহারে সংসারে শান্তি ফিরে আসবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দুই বার তদবির দিয়ে ৭৫০ টাকা হাতিয়েছেন। যশোর শহরের দড়াটানা এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, বিল্লাল হোসেন এত বড় বাটপার তা জানা ছিলো না। তার পছন্দের মানুষকে পাইয়ে দেয়ার তদবির দিয়ে কয়েক দফায় ৯ হাজারের বেশি টাকা হাতিয়েছেন। কিন্তু সম্মানের কথা চিন্তা করে কিছু বলতে পারিনী। তার বাড়ি থেকে দোয়া তদবির নিয়ে ফেরার সময় এক মহিলা জানান, ক্ষতি করার জন্য নাকি কে বা কারা তার বাড়িতে তাবিজ-কবজ পুতেছে। জ্বিনের মাধ্যমে তাবিজ-কবজ তুলে আনার কথা বলে টাকা নিয়েছে। এছাড়া ব্যবহারের জন্য তেল পড়া দিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শীপন আহমেদ জানান, অনেকের মুখে শোনা যায় বিল্লাল হোসেন নাকি জ্বীনের কবিরাজ। তবে তার ডাকে জ্বীন কিভাবে কাছে আসে তা জানা নেই। বিল্লাল হোসেনের প্রতারণার বিষয়ে কোন ভুক্তভোগী নালিশ করলে তার মানুষ ঠকানোর ব্যবসা বন্ধে উদ্যোগ নেয়া হবে।
এই বিষয়ে কথিত জ্বীনের কবিরাজ বিল্লাল হোসেনের নেয়ার জন্য বুধবার দুপুরে চান্দুটিয়ায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিল্লালের ঘনিষ্ট একজন দাবি করেছেন, তিনি কবিরাজি করলেও মানুষকে ঠকাননা।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস জানান, মানুষের দুর্বলতাকে পূঁজি করে কথিত জ্বীনের কবিরাজের নামে একটি মহল প্রতারণা করে আসছেন। চান্দুটিয়ার বিল্লাল কবিরাজের প্রতারণার বিষয়টি জানলাম। তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
