নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান শামীম ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন এলাকাবাসী। চাহিদা মত চাঁদা না দিলে ঘের দখল, মারপিট, হত্যার হুমকি ও ঘেরে কীটনাশক দিয়ে মাছ মারতেও পিছু হচ্ছেন না শামীম বাহিনী। বুধবার প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন চৌগাছা মৎস্য চাষি ও ভুক্তভোগীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চৌগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ইউপি সদস্য ইউনুচ আলী, জাহিদুর রহমান, সেলিম রেজা, হাসান আলী, দিনু আহম্মেদ আজিজুর রহমান প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান আব্দুল কাশেম বলেন, ‘চৌগাছায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে বাহিনী প্রধান শামীম রেজা ওরফে গালকাটা শামীম ও তার সহযোগীরা। তার নেতৃত্বে চৌগাছা সদর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা করে বেড়াচ্ছে সহযোগীরা। মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় তার সাথে শামীমের মূল বিরোধ। এরপর থেকে আমার ক্ষতি করার জন্য নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে শামীম। চলতি বছরে তিন বার শামিম ও তার লোকজনের হামলার শিকার হয়েছি। থানায় অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি।
তিনি বলেন, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকার ও দুইটি মোটরসাইকেল আসে আমার নগরবর্ণি মাছের প্রজেক্টে। তারা চলে যাওয়ার পর থেকে প্রজেক্টের মাছ মরতে শুরু করে। সকালে প্রজেক্টের পাহারাদার বিষয়টি আমাকে অবহিত করে। ভোরে পুকুরে যেয়ে দেখি প্রায় কোটি টাকার ৬শ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে। এ ঘটনায় মামলা করলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এরমধ্যে শামীম ও তার সহযোগীর উল্টো আমাকে খুন-জখম করবে বলে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শামিম ও তার সহযোগীরা শুধু আমাকে নয়, মনমথপুর বেড়গবিন্দপুর মৎস্যজীবী সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হামিদ আলীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে শামীম ও তার সহযোগীরা। চাঁদার টাকা না দিলে যেকোন সময় শামীম ও তার লোকজন সমিতির সদস্যদের ক্ষতিসহ বাওড়ের মাছ মেরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। শামীম বাহিনীকে চাঁদা না দেয়ায় হামার শিকার হয়েছেন চাঁদপুর গ্রামের মাছ চাষি আতিয়ার রহমান। তাকে গত ১৮ জুলাই চাঁদপুর বটতলা মোড়ে শামীম ও তার লোকজন মারপিট করে জখম করে। এরআগে পুকুরের পাড় ভেঙ্গে মাছ চুরি ও পুকুর দখল করে নিয়ে শামীম নিজে মাছ চাষ করছে। তিনি শামীম ও তার সহযোগীদের হাত তেকে মাছ চাষিসহ সাধারণ জনগণ যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
