নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন না করলে পাওয়া যাবে না ইপিআই টিকা, বন্ধ হবে ল্যাকটোজেন ভাতা সহ পৌরসভার সব সুবিধা, ২ বছরের অধিক বাচ্চার বয়স হয়ে গেলে জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে পিতা মাতার গুনতে হবে জরিমানা। যশোর পৌরসভা কর্তৃক এমন মাইকিং হচ্ছে শহর জুড়ে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভেতর তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। হঠাৎ এমন মাইকিং হওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়ছেন অনেকেই।
শহরের ব্যাগ পট্টির চা ব্যবসায়ী আমীর হোসেন বলেন, হঠাৎ করে গত কয়েকদিন মাইকিং শুনছি। বিষয়টি আগে জানা ছিলো না। এখন কি করবো বুঝতে পারছিনে । বাচ্চার বয়স ২ বছরের বেশি হয়ে গেছে এখন যদি জন্ম নিবন্ধন করতে যায় তাহলে জরিমানা দিতে হবে। এমনিই জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই।
বিষয়টি নিয়ে পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন কার্যকর করা হয়েছে। সে আইন অনুযায়ী বর্তমানে কোন শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এমনকি জন্ম নিবন্ধন করতে ২ বছরের বেশি দেরি হলে শিশুর পিতামাতাকে জরিমানাও গুনতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটিকেই মূলত পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্যই জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে হয়। তাই জন্ম নিবন্ধন করার ব্যাপারে সবাইকে উদ্ভূদ্ধ করার জন্য এমন প্রচারনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থের জন্য সন্তানের বয়স কমানো বা বাড়ানোর জন্য বার বার জন্ম নিবন্ধন পরিবর্তন করে। যার কারণে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের সব তথ্য অন-লাইনের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা হয় ফলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে। জন সাধারনণক সচেতন করার লক্ষ্যে শহর জুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে। এর পরেও যারা বাচ্চার জন্ম নিবন্ধন করবে না পরবর্তীতে নিবন্ধন করতে আসলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।