নিজস্ব প্রতিবেদক
নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে প্রাচ্য আকাদেমি যশোরের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শুক্রবার বিকেলে সংগঠনটির নিজস্ব কার্যালয়ে চিত্রপ্রদর্শনী, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের আন্দোলন সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধে যে সিস্টেম স্বৈরশাসক তৈরি করেছিলো। আজ প্রাচ্য সংঘ ১৬ বছরের বঞ্চনার শিকার হয়েও স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আশা করবো প্রাচ্য সংঘ সেই নাগরিক তৈরির কাজ করবে যে নাগরিক সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের কথা বলবে।
তিনি আরও বলেন, সব রকম সংস্কৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। না হলে বিভেদ তৈরি হবে। সন্তানদের শুধু বইয়ের পাতায় আটকে রাখলে পরিবারের ভেতরেও একদিন বিপ্লব তৈরি হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিন সারা বিশ্বের পথ প্রদর্শক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় প্রাচ্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বেনজিন খান বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের বঞ্চনার দাগ লেগে আছে প্রাচ্য সংঘে। এসময়ে সংগঠনটির কোন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কোন কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকেননি। সংগঠনটিকে ব্লাক লিস্টে রাখা হয়েছিলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেনজিন খান বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর প্রাচ্য সংঘ যশোরে ব্লাকলিস্টেড ছিলো। আমাদের সন্তানরা সরকারি কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। সাম্যের পক্ষে অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলায় আমরা সব সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছি। তবে আমরা চাই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সংস্কৃতির মধ্যে আমরা যেন থাকতে পারি।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, প্রাচ্য আকাদেমির অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন, অভিভাবক প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম তারেক। সঞ্চালনা করেন প্রাচ্য আকাদেমির সহকারী অধ্যক্ষ তাপস বিশ্বাস।
আলোচনা সভার শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ মৃত্যুতে শোক জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানের পর প্রাচ্য আকাদেমির শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। পরে প্রধান অতিথি চিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীদের মাঝে সনদ বিতরণ করেন।
