পাইকারিতে কেজিতে বেড়েছে ২-৩ টাকা, খুচরায় ৫-৬ টাকা
আব্দুর রউফ
জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ার দুই দিনের মধ্যেই যশোরের চালের বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পাইকারি বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খুচরা বাজারে সেই চাল ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে। ফলে আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম আরও এক দফা বাড়তে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দূরবর্তী জেলা থেকে চাল পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন করে চালের দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন কিছু মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ী। ফলে জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচের পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধিরও প্রভাব পড়ছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর পর থেকেই পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে। গত দুই দিনে যশোরের বড়বাজারের চালের পাইকারি বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে কোনো কোনো চালের দাম বেড়েছে ৫ টাকা বা তারও বেশি।
যশোর বড়বাজারের চাল ব্যবসায়ী নিউ মা ও কালী ভান্ডারের মালিক অমল সাহা বলেন, আগে কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরা থেকে ১০ টন চাল আনতে পরিবহন খরচ পড়ত প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর একই পরিমাণ চাল পরিবহনে খরচ বেড়ে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে নতুন করে চাল আমদানি করা ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছেন।
তিনি বলেন, পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে নতুন চাল আনতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়েছে। আবার কিছু ব্যবসায়ী আগে মজুত করে রাখা চালের দামও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে মিনিকেট চাল পাইকারিতে কেজি ৫২ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৫৫ টাকা। খুচরা বাজারে একই চালের দাম উঠেছে ৬০ টাকা পর্যন্ত।
বাসমতি চালের পাইকারি দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮ টাকা হয়েছে। স্বর্ণা চাল ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে পাইকারিতে ৫০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
২৮ চালের দাম আগে পাইকারিতে ৫০ থেকে ৫২ টাকা থাকলেও এখন তা ৫৫ টাকা। খুচরা বাজারে এই চাল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ টাকা কেজি দরে। সুবর্ণলতা চালের পাইকারি দাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা থাকলেও এখন বেড়ে হয়েছে ৫৩ টাকা। খুচরা পর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া কাটারীভোগ চাল পাইকারিতে ৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৮৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাল চালের পাইকারি দাম ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ৯৩ টাকা হয়েছে। খুচরা বাজারে তা ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ী অমল সাহা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে শুধু পরিবহন ব্যয়ই নয়, বাজারের অন্যান্য পণ্য আনা-নেওয়ার খরচও বাড়বে। এর প্রভাব পর্যায়ক্রমে চাল, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারে পড়তে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যে চালের দাম আরও এক দফা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে হঠাৎ করে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম একের পর এক বাড়ছে। এতে মাসের সংসার খরচ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ভোক্তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক প্রভাব বাজারে পড়তে পারে। তবে সেই সুযোগে মজুতদার বা অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।
