ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: পঙ্গু মমিন খাঁর আকুতি-আর্তি শোনার কী কেউ নেই। একদিকে যুবক ছেলের অকাল মৃত্যু। অপরদিকে ভুল নিজে পঙ্গু। অন্যদিকে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। তারপরও নিজের চিকিৎসাসহ স্ত্রী-সন্তানের ভোরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার খরচ, সব মিলিয়ে এক দুর্বিসহ ও অমানবিক জীবনযাপন করছেন মমিন খাঁ। নিকট আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য সহযোগিতা আর সরকারের দেয়া পঙ্গুভাতার কার্ডই তার একমাত্র সম্বল। আত্মীয়-স্বজনও সাহায্য সহযোগিতার হাত প্রায় গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে চোখে মুখে তার অনিশ্চয়তার ঘোর অন্ধকার।
ঝিকরগাছা উপজেলার টাওরা গ্রামের আব্দুল মমিন খাঁর শেষসম্বল বসতভিটার একাংশ বিক্রি করে চিকিৎসা করাবেন তাও বাঁধ সেধেছে বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক খুঁটি। তা অপসারণ করতে আবেদন-নিবেদন করলেও টনক নড়ছেনা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগ তার। বুধবার সকালে সরজমিনে মমিন খাঁর বাড়িতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন তিনি বলেন, একমাত্র ছেলে মাহামুদুল হাসান ফয়সাল এইচএসসি পাশ করার পর দালালের খপ্পরে পড়ে ২০১৯ সালে বৈধভাবে ইরাকের কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বদ্ধরুমে আড়াই মাস আটকে রাখায় নির্যাতনের মুখে তার মৃত্যু হয়। নিজের পিঠে ছোট্ট একটি টিউমারের ভুল অপারেশন করায় তিনি আজ পঙ্গু।
মমিন খাঁ জানান, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত তিন বিঘা জমির মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিক্রির টাকায় ছেলের বিদেশ পাঠাতে ৪ লাখ ২০হাজার টাকা, লাশ ফেরত আনতে ৩ লাখ টাকা, নিজের চিকিৎসায় প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে বর্তমানে তিনি নিঃস্ব। বসতভিটাটুকু ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নেই তার। তার বড় মেয়ে মিসকাত মুমিন নি¤িœ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট মেয়ে মামিয়াত মুমিন নওমি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, বসতঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের এই লাইন টানতে গিয়ে আমার ফলদ আমগাছ, নারিকেল গাছগুলো কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তার ঘরের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুতের লাইন সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।