নিজস্ব প্রতিবেদক
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত যশোরের বাঘারপাড়ার আমজাদ হোসেন মোল্যার বাহিনী আবারো মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষীর স্বজনের ঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রায় ঘোষণার পর যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী ও স্বাক্ষীরা এমন সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন। আগুন দেয়ার ঘটনায় বাঘারপাড়ার বন্দবিলা ইউনিয়নের প্রেমচারা ও দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত সোমবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী য্দ্ধুাপরাধ মামলার সাক্ষী দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের ইসহাক মোল্যার পৌত্র সোহরাব মোল্যা। আগুনে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তার।
সোহরাব মোল্যার স্ত্রী জহুরা বেগম জানান, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় বসতঘরের পাশে চটপট শব্দ শুনতে পান তিনি। বাইরে বের হয়ে দেখেন জ্বালানি রাখা ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। ততক্ষণে একটি ধান ঝাড়া মেশিন, দশ কাওন বিচালি, ২০০ মণ কাঠ, পাটকাঠিসহ আশপাশের মূল্যবান গাছপালা আগুনে পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।
ভুক্তভোগী সোহরাব মোল্যার ছোটভাই ইমরান হোসেন লাল্টুর ধারণা, তার দাদা ইসহাক মোল্যা যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী হওয়ায় প্রতিশোধ নিতে আমজাদ মোল্যার সন্ত্রাসী বাহিনীরা এ হামলা চালিয়েছে। ইতিপূর্বে সাক্ষী ইসহাক মোল্যা ও তার ভাই মান্নানের বাড়িতে একাধিক আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটলেও আজো কোনো বিচার হয়নি। শুধু তাই নয়, আমজাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ায় তার লোকজন মামলার সাক্ষী এহিয়ার রহমানের ভাই তফসির মোল্লাকে গলাকেটে হত্যা করে। স্বাক্ষী ও তাদের স্বজনদেরকে ষড়যন্ত্রমূলক ১৬টি মামলায় জড়িয়েছে এবং বসতবাড়িতে আগুন দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, মামলার বাদী, সাক্ষী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তার জন্য প্রেমচারা গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হয়। বর্তমান সময়ে সেখানকার কিছু পুলিশ সদস্যের সাথে আমজাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সখ্যতা গড়ে উঠেছে। যে কারণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান এলাকাবাসী।
বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেনকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে প্রেমচারা অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রবীন্দ্রনাথ অধিকারী জানান, খবর পেয়ে পুুলিশ সদস্যদের নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন তিনি। প্রেমচারা ও দক্ষিণ চাঁদপুর অনেক বড় গ্রাম। অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না। তবে রাতের আঁধারে যারা আগুন লাগিয়ে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে তাদের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
