দুই দিন ধরে আন্দোলনে কর্মচারীরা
জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে স্মারকলিপি
অভয়নগর প্রতিনিধি: নওয়াপাড়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় হোটেল শ্রমিক আহত হওয়ার ঘটনায় গত দুই দিন ধরে হোটেল ধর্মঘট চলছে। হোটেল মালিক ও শ্রমিকদের আহবানে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। গত দুইদিন নওয়াপাড়ার সকল হোটেল বন্ধ রয়েছে। গতকাল রবিবার মালিক ও শ্রমিকরা হোটেল বন্ধ রেখে ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। গত দুইদিন নওয়াপাড়ার সকল হোটেল বন্ধ থাকায় দূর দুরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
জানা যায়, নওয়াপাড়ায় হোটেল সাতক্ষীরা প্লাস ও হোটেল বিসমিল্লায় কতিপয় সন্ত্রাসী হামলা করে ৪ জন শ্রমিককে মারপিট করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় হোটেল শ্রমিক রিপন গাজী ও ইমদাদ মারাত্মক আহত হন। তাদের অভয়নগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিপন গাজী বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুস সালাম রাজীবকে (৩৫) আটক করেছে। আটক আব্দুস সালাম রাজীব উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের আবু তালেব শেখের ছেলে।
নওয়াপাড়া হোটেল শ্রমিক রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার সময় নওয়াপাড়ার সাতক্ষীরা প্লাস হোটেলে দুই ব্যক্তি পাঁচ প্যাকেট বিরিয়ানি কেনার জন্য আসে। তখন বিরিয়ানি গরম করে দিতে একটু দেরি হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হোটেল শ্রমিককে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিতে ওই দুই যুবক পড়ে যায়। এরপর হোটেল মালিক লিটন কুন্ডু বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। পরদিন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ওই যুবকরা ৭/৮টি মটর সাইকেলযোগে ১৬/১৭ জন যুবক এসে এলোপাতাড়ি ওই হোটেলের শ্রমিক রিপন গাজীকে মারপিট শুরু করে। এসময় হোটেল ম্যানেজার ইমদাদ হোসেন ঠেকাতে গেলে তাকেও মারপিট করে তারা দ্রুত চলে যায়। রিপন ও ইমদাদকে মারাত্মক আহত অবস্থায় অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ছাড়াও গত শুক্রবার রাতে নওয়াপাড়া বিসমিল্লাহ হোটেলে মালাইকারী ক্রয় করে তার মধ্যে ময়লা পাওয়ার অভিযোগ করে হোটেলের কর্মচারী এনামুল খান (২৪) ও জামাল ফারাজীকে (৪২) মারপিট করে কয়েকজন যুবক। এসময় হোটেল মালিক নাসির উদ্দিন খান ঠেকাতে গেলে তারা চাকু নিয়ে তেড়ে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী রিপন গাজী বলেন ‘হোটেলের কর্মচারীদের মারপিট করার কারণে আমরা গতকাল শনিবার থেকে তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী ও হোটেল মালিকরা ধর্মঘট পালন করছি। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও আমাদের নিরাপত্তার দাবীতে আজ সোমবার নওয়াপাড়া নুরবাগ মোড়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসুচী ঘোষনা করা হবে।’
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মিলন কুমার মন্ডল বলেন, ‘হোটেল কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় রাজীব হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’