সুজায়েত শামীম সুমন, ঢাকা
কুমিল্লার শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রে নবনির্মিত শ্রীকাইল-৫ গ্যাস কূপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কূপটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা নিজেদের প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করে আমদানিনির্ভরতা কমাতে চাই। গ্যাসের চাহিদা আমরা নিজস্ব সম্পদ দিয়েই পূরণ করব। দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও আমাদের অঙ্গীকার।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) কর্তৃক খনন করা এই কূপটি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ঘনফুট (৮ এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা এই কূপটির কাজ শুরু হয় গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর এবং শেষ হয় চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি। তবে কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কূপটি চালুর উদ্যোগ কিছুদিন স্থগিত ছিল।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের অগ্রগতির ওপর নিবিড় নজরদারি শুরু করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অন্যতম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশকে ব্যয়বহুল আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছিল। ফলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় সম্পদের পূর্ণ ব্যবহারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শ্রীকাইল-৫ কূপ দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই কূপ থেকে পাওয়া অতিরিক্ত গ্যাস শিল্পকারখানা, সার কারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, শ্রীকাইল-৫ কূপে আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস মজুত রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৮ বিসিএফ উত্তোলনযোগ্য। এই কূপ থেকে আগামী প্রায় ১০ বছর গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও শনিবার প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটির উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৮ এমএমসিএফডি নতুন গ্যাস যোগ হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
