নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের হট ফেভারিট দল ইয়াং ড্রাগন মার্শাল আর্ট। প্রথম দুই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা দলটি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। বুধবারও ১৩০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বিপর্যয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে দারুণ এক অর্ধশতক করেন আশিকুল ইসলাম নিলয়। নিলয়ের ফিফটিতে প্রথমে ব্যাট করে ২৭৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির দল বলে পরিচিত পাওয়া ক্লাবটি। পরে বল হাতে ডানহাতি অফস্পিনে ভেলকি দেখান নিলয়। তুলে নেন চার উইকেট। তাতে প্রতিপক্ষ ইয়াং ক্রিকেটার্স গুটিয়ে যায় ১১৯ রানে। ১৬০ রানের জয়ে ‘ঘ’ গ্রুপের সেরা হয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে ইয়াং ড্রাগন মার্শাল আর্ট।
শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইয়াং ড্রাগনের অধিনায়ক জাওয়াদ রয়েন। ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই কোন রান না করেই সাজঘরে ফিরে যায় ওপেনার জামাদুস সানি। দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় রোধ করে। অপর ওপেনার মুনির আহমেদ দিপু ইনজুরির কারনে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাজঘরে ফিরে যায়। এরপরেই বিপর্যয়ের পড়ে ইয়াং ড্রাগন। প্যাভালিয়নের পথ ধরেন রয়েন ও দ্বীপ জ্যোতি। রুবেল মাহমুদ ও তামিম আক্তার দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। তবে তারাও বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। এদুজনের সাথে প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি করা মঈনুল ইসলাম সোহেলও ফিরলে ১৪৫ রানে ৬ উইকেটের দলে পরিনত হয় ইয়াং ড্রাগন। সেখান থেকে নিলয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করে। নিলয় প্রথমে ইনজুরি থেকে ফিরে আবারও ব্যাটিং নামা দিপুর সাথে ৪৭ রানে জুটি গড়েন। পরে শরিফুল ইসলামের সাথে গড়েন ইনিংসের সবচেড়ে বড় ৫৬ রানের জুটি। এই জুটির উপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় দলটি। ৬৫ বলে ফিফটি করার নিলয় খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস। ৭৪ বলে মারেন ৬টি চার ও ২টি ছয়ের মার। এরপাশে তামিম আক্তার ৬৯ বলে ৪টি চারে ৪৭, দিপু ৫৯ বলে ৬টি চার ও একটি ছয়ে অপরাজিত ৪৪, শরিফুল ইসলাম ২৫ বলে সমান দুটি করে চার ও ছয়ে ৩১ রান করেন।
বল হাতে ইয়াং ক্রিকেটার্সের দলীয় অধিনায়ক মাহফুজুর রহমান ৩৮ রানে ৩ উইকেট, জাহিদ হাসান ২টি, রমজান আলী, নাহিদ হাসান ও আশরাফুজ্জামান হৃদয় ১টি করে উইকেট দখল করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে উইকেট হারিয়ে বসে ইয়াং ক্রিকেটার্স। পরে এই চাপ আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৪১ ওভার ১ বলে ১১৯ রান করতে পারে।
ব্যাট হাতে রাকিব হাসান বাবু ২৩, শাহারিয়ার হোসেন ২২, স্বাদীন হোসাইন ১৩ রান করেন।
বল হাতে ইয়াং ড্রাগন মার্শাল আর্টের নিলয় ১০ ওভারে ৫টি মেডেনসহ ২২ রানে ৪টি, শরিফুল ইসলাম ২২ রানে ২টি, বাবু, দ্বীপ জ্যোতি, জাওয়াদ রয়েন ও ইমাদুল হক একটি করে উইকেট দখল করেন।
