গত কয়েক দিন ধরে গণমাধ্যমে খবর ছাপা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনার। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও ঘটছে। কক্সবাজারে সড়কে ৬ সহোদর ভাইয়ের একসাথে প্রাণহানির ঘটনাতো দেশ কাপানো ঘটনা। এর মাদারিপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মা-মেয়ে এক সাথে। ইতোমধ্যে যশোরেও কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এত যে দুর্ঘটনা ঘটছে তা কোনো প্রতিকার নেই। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা। নির্দেশনা প্রতিপালনে কেউ গুরুত্ব দিল না। আমরা মনে করি জননেত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনা নিশ্চিত কমে আসতো। যাদের ওপর বাস্তবায়নের দায়িত্ব তারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু যন্ত্রদানব যে তাদেও জীবনটাও কেড়ে নিতে পাওে, প্রাণ হরণ করতে পারে তাদের সন্তানাদিসহ আপনজনদের সে কথাটিও তারা ভাবেন না।
মানুষ মরণশীল জন্মিলে মরতে হবে। কিন্তু দুর্ঘটনায় মৃত্যু কাক্সিক্ষত নয়। দুর্ঘটনার বিষয়টাকে নিয়তির বিষয় বলা হয়ে থাকে। প্রবাদ আছে ‘মরণ লেখা পায়, যার যেখানে মরণ আছে সেখানে গিয়ে হয়।’ কিন্তু তার পরেও সতর্কতা বা সচেতনতা বলে একটা বিষয় আছে যেটাকে কোনোক্রমেই উড়িয়ে দেয়া না। এ জন্য দুর্ঘটনা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি শাস্তি মুখোমুখি হতে হয়। এখানে নিয়তির বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা যতদূর জানি তরুণরা যখন এই যান হাতে পায় তখন তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে চালাতে গিয়ে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় পড়ে। জন্ম হয় বিয়গান্ত ঘটনার। অভিভাবক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনকে এই বেপরোয় গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া দরকার। বিষয়টাকে পাশ কাটিয়ে গেলে এসব ঘটনা ঠেকানো যাবে না। অন্যান্য যানবহন চলাচলে কোনো নিয়ম নীতি মানতে দেখা যাচ্ছে না। মনে হয় যেন একটা ফ্রি স্টাইলের দেশে যানবাহনগুলো চলাচল করছে। হালে একটি কথা শোনা যাচ্ছে বেশি করে। তা হলো যানবাহন চলাচলের বিষয়ে কড়াকড়ি করলে নাকি শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। তাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে। এটা খোড়া অজুহাত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। দেশটাকে সঠিক পথে চলতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। সড়কে মৃত্যু রোধ করতে হলে আইনের কাছে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।