নিজস্ব প্রতিবেদক
ডেইলি স্টার ও ইউএনডিপির উদ্যোগে ‘নির্ভয়া’ নামে সারা দেশের ৬ নারীকে অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যশোরের আইসিটি নিয়ে কাজ করা নারী উদ্যোক্তা প্রিয়াংকা রানী এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। রোববার দুপুরে ঢাকায় ডেইলি স্টার অফিসে অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। আরো অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নাটোরের আব্দুস সাত্তার মৌওন, দিনাজপুরের মারিয়া মেহেদী, মৌলভীবাজারের রোকসানা আক্তার, চট্টগ্রামের সামিনা আলম, ময়মনসিংহের চুমকি বিশ্বাস। এতে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার নারদিয়া সিম্পসন, ইউএনডিপির বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার।
প্রিয়াংকা রানীর গল্প : বাংলাদেশ যখন ডিজিটালে এগিয়ে যাচ্ছে তখনই প্রিয়াংকার মাথায় চিন্তা এলো প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা কেন পিছিয়ে থাকবে। তাদের জন্য ডিজিটাল সেক্টরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। স্বামীর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন নিজের অঞ্চলে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার খোলার। এরপরই তিনটা কম্পিউটার নিয়ে যাত্রা শুরু। ছেলের নামেই ‘বর্ণ আইটি ইনস্টিটিউট’ করেন তিনি। ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি করেন একটি অনলাইন প্লাটফর্ম। কিন্তু তিনি নিজেই কম্পিউটারে খুব বেশি দক্ষ ছিলেন না। তার কারণে নিজেও একটি শর্ট কোর্স করেন। গ্রাম অঞ্চলের নারীদের তৈরি করা নকশিকাঁথা ও যশোরের ব্র্যান্ডিং খাদ্য পণ্য গুড় পাটালি অনলাইনে বিক্রি করেন। এ কথা চিন্তা করেই তৈরি করা হলো ই-কমার্স সাইট, ‘দেশি ফেরিওয়ালা’। অন্যদিকে তার ট্রেনিং সেন্টার থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারীই স্ব স্ব স্থানে ডিজিটালের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। কেউ শিক্ষকতা, কেউ অনলাইন প্লাটফর্মে ডিজিটালি ব্যবসা, কেউ করছেন ফ্রিল্যান্সিং আবার অনেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক নারীই এখন ডিজিটালি স্বাবলম্বী। এই গল্প যশোর বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলার নারী উদ্যোক্তা প্রিয়াংকা রানীর। গত সাত বছরে আগে শুরু হওয়া তার প্রতিষ্ঠান থেকে ৭ শতাধিক নারী-পুরুষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, প্রিয়াংকা রানী শুধু কম্পিউটার ট্রেনিং নয় দেশি ফেরিওয়ালা ই-কমার্সের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে যশোরের হাতের কাজের নান্দনিক পোশাক, নকশিকাঁথা ও গুড় পাটালি অনলাইনে বিক্রি করে আসছেন। এ কাজের ফাঁকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের খুলনা বিভাগীয় উদ্যোক্তা সম্মেলনে যশোর জেলার সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রিয়াংকা। শুধু ছাতিয়ানতলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির প্রথম সফটওয়্যার পার্ক যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে লেভেল ৮ এ তার বর্ণ আইটি ইনস্টিটিউট এর একটি শাখাও রয়েছে। যার যাত্রা শুরু ২০১৮ সালের শেষের দিকে। যেখানে আইটি সেক্টরে মানব সম্পদ তৈরি করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। ট্রেনিং প্রাপ্তরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও দেশের অর্থনীতিতে নিরন্তর ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই ট্রেনিং সেন্টারে ট্রেনিং প্রাপ্তরা অধিকাংশই নারী।
প্রিয়াংকা রানীর চলার পথকে আরো সহজ করে দিয়েছে ইউএনডিপির আনন্দমেলা প্ল্যাটফর্ম, ইউএন উইমেন এর ওয়েবস ট্রেনিং, একই সংস্থার গ্রীন বিজনেস সংক্রান্ত ট্রেনিং ও জেন্ডার ইকিউলিটি সিস্টেম ট্রেনিং, বাংলাদেশ এসএমনই ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল মার্কেটিং সংক্রান্ত ট্রেনিং।
শুধু প্রিয়াংকা নয়, তার অঞ্চলের অবহেলিত নারীদের নিয়ে ডিজিটাল ইকো সিস্টেম ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো দূরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : প্রিয়াংকা রানী প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যেতৃণমূল পর্যায়ের সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারী, প্রতিবন্ধী নারী অক্ষর জ্ঞানহীন নারী, গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটা ফেরিওয়ালা হিসেবেই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে যাবেন বলে মন্তব্য তার। পাশাপাশি তিনি তার তৃণমূল এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ইনস্টিটিউট করার পরিকল্পনা রয়েছে।
