নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শামস্-উল-ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড় মিনহাজুল করিম স্বাধীন। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিভাগের ক্লাব অ্যাতলেতিকো ভিলা স্যান কার্লোসে অনুশীলনের সুযোগ পেয়ে খবরের শিরোনাম হন। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলে আবারও এসেছেন আলোচনায়। যশোর সদরের আল হেরা ডিগ্রি কলেজের সম্মানের শিক্ষার্থী স্বাধীন নিজের নাম বদলে খেলেছেন রফিকুল হাসান নামে। এদিন স্বাধীন নয় নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন। তবে খেলোয়াড় তালিকায় নয় নম্বর জার্সিতে নাম ছিল রফিকুল হাসান। তাছাড়া খেলোয়াড় তালিকায় কোথাও মিনহাজুল করিম স্বাধীনের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুধু স্বাধীন নয় ফাইনালে অংশ নেয়া আল-হেরা ডিগ্রি কলেজ ও নাভারন ডিগ্রি কলেজের হয়ে খেলেছেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।
ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন আল হেরা ডিগ্রি কলেজের হয়ে ম্যাচে অংশ নেওয়া ১২ নম্বর জার্সিধারি খেলোয়াড় মহিন আহমেদ। যাকে ফুটবল অঙ্গনে সবাই চিনে থাকেন জুলু নামে। তিনি উপশহর কলেজের অনিয়মিত উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী। ১৩ নম্বর জার্সি পরিহিত মিনহাজুল চৌধুরী তিনিও একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এছাড়া সাইড বেঞ্চে বসে থাকা ১৭ নম্বর জার্সি পরিহিত সিফাত নামেই বেশি পরিচিত। তিনি উপশহর কলেজের শিক্ষার্থী। খেলোয়াড় তালিকায় নাম রয়েছে পাপ্পু কুমার দত্ত।
তবে এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া অফিসার খালেদ জাহাঙ্গীর বলেন, আমরা কলেজগুলোকে নীতিমালা প্রদান করেছিলাম। সেখানে বলা আছে অংশ গ্রহণকারী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরাই শুধু অংশ নিতে পারবে। যদি কেউ অন্য কলেজ বা অনার্সের শিক্ষার্থী খেলায় তার দায়ভার কলেজের অধ্যক্ষকে নিতে হবে।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ থাকলে গোল করতে পারেনি দু’টি কলেজের খেলোয়াড়রা। তবে বল দখলের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে ছিল আল-হেরা কলেজ। নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষে ফলাফল নির্ধারণের জন্য ম্যাচটি মাঠে গড়ায় টাইব্রেকারে। এতে ৪-২ গোলে জয় পায় সদরের আল হেরা ডিগ্রি কলেজ।
ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের ১১ নম্বর জার্সিধারি খেলোয়াড় তানজিরুল ইসলাম। এছাড়া এ খেলোয়াড় সর্বোচ্চ তিনটি গোল করে সেরা গোলদাতা নির্বাচিত হয়েছেন।
চ্যাম্পিয়ন আল-হেরা ডিগ্রি কলেজ ও রানার আপ নাভারণ ডিগ্রি কলেজ তারা বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। বিভাগীয় পর্যায়ের ম্যাচ হবে খুলনায়।
ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোর জেলার মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাশ, জেলা ক্রীড়া অফিসার খালেদ জাহাঙ্গীর, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ প্রমুখ।
