কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বেলকাগ্রামে বজ্রপাতে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। ১৯ এপ্রিল ভোরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, মুজিবুর রহমানের স্ত্রী আসমা বেগম (৫৫) ও তার মেয়ে ইয়াসমিন (২৭)। মঙ্গলবার ভোরে সেহরির সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশে ধান ঢাকতে যান মা ও মেয়ে। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে বজ্রপাতে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে। বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে বজ্রপাতও হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক আছে। বিজ্ঞানীরা অনেকে মনে করেন বিশ্বব্যাপি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য এটা বেশি হচ্ছে। তবে অনেক বিজ্ঞানীই আবার এ মতের সাথে একমত নন। বাংলাদেশে আমরাও ভাবছি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তাপমাত্রা বেড়েছে এবং এর কিছুটা হলেও প্রভাব পড়েছে। বজ্রপাতের ধরণই এমন। সকালের দিকে প্রচন্ড তাপমাত্রা হয়। আর তখন এটি অনেক জলীয় বাষ্প তৈরি করে। এ জলীয় বাষ্পই বজ্র ও বজ্রপাতের প্রধান শক্তি। তাপমাত্রা যত বাড়বে তখন জলীয় বাষ্প বা এ ধরণের শক্তিও তত বাড়বে। জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়া মানেই হলো ঝড়ের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া। বছরে এক ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ১২শতাংশ বজ্র ঝড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এটি কোনো কোনো বিজ্ঞানী প্রমাণ করেছেন। বজ্রপাত প্রকৃতির একটি বিষয় এবং এটি হবেই। তবে এতে প্রাণহানি কমানোর সুযোগ আছে।
বজ্র ঝড় যখন শুরু হয় এর তিনটি ধাপ আছে। প্রথম ধাপে বিদ্যুৎ চমকানি বা বজ্রপাত শুরু হয়না। প্রথমে মেঘটা তৈরি হতে থাকে এবং সে সময় আকাশের অবস্থা খুব ঘন কালো হয়না। একটু কালো মেঘের মতো তৈরি হয়। সামান্য বৃষ্টি ও হালকা বিদ্যুৎ চমকায়। আর তখনি মানুষকে সচেতন হওয়া উচিত। প্রতিটি দুর্যোগে একটি নির্দিষ্ট সময় আছে এবং সে সম্পর্কে প্রতিটি মানুষকে সচেতন করা উচিত। বাইরে থাকলে যখন দেখা যাবে আকাশ কালো হয়ে আসছে তখনি নিরাপদ জায়গায় যেতে হবে। এ সময়টিতে অন্তত আধঘণ্টা সময় পাওয়া যায়।
অঞ্চল ভেদে এটি কম বেশি হচ্ছে। বজ্রঝড় ও বজ্রপাত এপ্রিল ও মে মাসের কিছু সময় ধরে প্রতি বছরই হয়। এ বছর কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতের সংখ্যা বেশি। কারণ ওখানে হাওড়ের জন্য জলীয় বাষ্প বেশি হয়। সে কারণেই সিলেটের ওই অঞ্চলটিতে বজ্রপাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। তালগাছের মতো গাছগুলো রোপণ করা উচিত খোলা মাঠে, তাহলেই এটি বেশি কাজে দেবে। কিন্তু কিছু প্রকল্পের অধীনে সেগুলো লাগানো হচ্ছে রাস্তার পাশে। এর ফলে বজ্রপাত মানুষ বা গাড়ির ওপরই পড়বে। ঘন বনও বজ্রপাত প্রশমনের জন্য ভালো, কারণ এটি তাপমাত্রাও কমায়।