এম আর মাসুদ, ঝিকরগাছা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত বরেণ্য প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক ও গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেনউদ্দীন হোসেন (৮৩) মারা গেছেন। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে দুই মেয়েসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখেছেন। গত বৃহস্পতিবার কথাসাহিত্যিক হোসেনউদ্দীন হোসেনকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে গতকাল ভেন্টিলেশন সার্পোট দেয়া হচ্ছিল।

বরেণ্য এই সাহিত্যিক হোসেনউদ্দিন হোসেনকে ২০২২ সালে যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে ৩ মে দৈনিক কল্যাণের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তিনি আশির দশকে দৈনিক কল্যাণের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে দৈনিক কল্যাণ পরিবার শোকাহত। হোসেনউদ্দিন হোসেনের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন দৈনিক কল্যাণের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা,ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এহসান-উদ-দৌলা,ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু।
হোসেনউদ্দীন হোসেন ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার পান। প্রবন্ধ ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি তাঁকে এ পুরষ্কারে নির্বাচিত করে। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে ১৯৪১ সালে বর্ণাঢ্য এক কৃষি পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা কলিম উদ্দীন মা আছিরন নেছা। ৪ বোনের তিনি একা ভাই। শৈশবকাল থেকেই তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
১৯৫৫ সালে কোলকাতা থেকে প্রকাশিত লোকসেবক পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয়। সেই শুরু। অদ্যবদি তাঁর ৩০টি বই বের হয়েছে। এর মধ্যে কবিতার বই ২টি, গল্পের বই ২টি, ছোট গল্পের বই ২টি, উপন্যাশের বই ৬টি, ইতিহাসের বই ৪টি, বিদেশি সাহিত্যের বই ৩টি, জীবন ভিত্তিক বই ১টি, প্রবন্ধের ৫টি বই উল্লেখযোগ্য। তিনি সম্পাদনাও করেছেন ৩টি বইয়ের।
মাইস এন্ড ম্যান। এই বইটি ভারতের কোলকাতার রবীন্দ্র ভারতি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে পড়ানো হয়। বইটি বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করা। বইটির বাংলা হলো ইঁদুর ও মানুষেরা। বইটির লেখক বরেণ্য সাহিত্যিক হোসেনউদ্দীন হোসেন। ‘ইঁদুর ও মানুষেরা’ এবং ‘প্লাবন ও একজন নূহ’ বই দুইটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়েছে। প্লাবন ও একজন নূহ ইংরেজিতে অনুবাদের কারণে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যাল হোসেনউদ্দীন হোসেনকে টপ হানড্রেড রাইটার্স বা সেরা ১০০জন লেখকের তালিকায় ভূষিত করে। এসময় তাঁকে গোল্ড মেডেল প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজের ইন্টারল্যশনাল বাইয়োজিক্যাল সেন্টার ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত যেসব লেখকের নাম প্রকাশ করেছে তাতে মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র হোসেনউদ্দীন হোসেনই রয়েছেন। এছাড়া দেশি—বিদেশি আরো অন্তত ৫০টি পুরষ্কার ও সম্মামনা পেয়েছেন এই বরেন্য সাহিত্যিক।
হোসেনউদ্দীন হোসেনের ছোট ছেলে সজল হোসেন দৈনিক কল্যাণকে বলেন, মঙ্গলবার জোহর নামাজ বাদ জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
