নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ আর নেই। শুক্রবার বেলা ১ টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। শুক্রবার বাদ এশা যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে বিকেলে ঘোপ কোয়ার্টার মাঠে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে গার্ড অব অনার দেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যশোরের বাঘারপাড়া থানা কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা এই মুক্তিযোদ্ধাকে।
মরহুমের বড় ছেলে ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ মুন জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে রাজেক আহমেদ অসুস্থবোধ করতে থাকে। ১ টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিজুর রহমানের স্নেহধন্য রাজেক আহমেদ ১৯৭১ সালে ছিলেন বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি আলী রেজা রাজুর ছোট ভাই।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডারের মৃত্যুর সংবাদ শুনে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে তার বাসভবনে ছুটে যান যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, যশোর পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনি খাঁন পলাশ, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি ও যুদ্ধকালিন যশোরের মুজিববাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রাক্তন কমান্ডার মুযহার ইসলাম মন্টু, আব্দুল আফ্ফান লিফটন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি একে এম খয়রাত হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আফজাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ আতিকুর, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, যশোর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণের প্রকাশক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন।
মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদের স্বজনের সমবেদনা জানাতে এসে তার দীর্ঘদিনের পথচলার সাথী বাল্যবন্ধু ও যুদ্ধকালিন যশোরের মুজিব বাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলম বলেন, রাজেক আহমেদ এভাবে চলে যাবেন কখনো ভাবতে পারেনি। একসাথে দুইজন ছাত্ররাজনীতি করেছি। মুক্তিযুদ্ধে সংক্রিয় যোদ্ধা ছিলাম দুজনেই। ছাত্ররাজনীতিতে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো। মুক্তিযুদ্ধে খুব সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধে তার বলিষ্ট লড়াইয়ের কারণে বাঘারপাড়া দ্রুত হানাদার মুক্ত হয়েছিলো। ব্যক্তি জীবনে খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তার এই চলে যাওয়ায় শূণ্যতা সৃষ্টি হলো। তার অভাব আমরা মর্মে মর্মে অনুভব করবো।
সাবেক জেলা কমান্ডার মুযহারুল ইসলাম মন্টু বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে রাজেক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। খুব সাহসীকতার ও বুদ্ধিসম্পন্ন এবং সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে তার উপজেলা বাঘারপাড়া পরিচালনা করেছিলেন। তার অবদান বাঘারপাড়াসহ যশোরবাসী কখনো ভুলবে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একে এম খয়রাত হোসেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরবর্তীকালীন সময়ে রাজেক আহমেদ জেলা মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে ভুমিকা রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধেও প্রাণপণ যুদ্ধ করে বাঘারপাড়ার এক গ্রাম থেকে অন্যগ্রামে ছুটে বেড়িয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামন্য অবদান কখনো ভুলবে না।
যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণের প্রকাশক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা বলেন, রাজেক আহমেদের মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাস ব্যাপক সাফল্যের। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার থাকাকালীন সময়ে তিনি অসহায় মুক্তিযুদ্ধাদের সবসময় সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন। তিনি সৎ ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। রাজেককে এখনো দুর্নীতি স্পর্শ করতে পারেনি। তার চলে যাওয়া আমাদের শূণ্যতা সৃষ্টি হলো।
বাদ এশা যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে তার নামাজের জানাযা শেষে ঘোপ পারিবারিক কবর স্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে মানুষ অংশ নেন।
বাদ এশা যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে তার নামাজের জানাযায় দলমত নির্বিশেষে শত শত মানুষ অংশ নেন।
এর আগে মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধা জানান, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপির নেতৃত্বে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যশোর জেলা জাসদ, জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জাহাংগীর আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনিম লিংকন, যশোর পৌরসভা, যশোর পৌর আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, যশোর প্রেস ক্লাব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর, যশোর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বির্বতন যশোর, তির্যক যশোর, স্পন্দন যশোর, যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, জেলা ওর্য়াকাস পার্টি, উচীতি যশোর, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, সুর বিতান, অগ্নিবীনা যশোর, শিল্পকলা একাডেমি যশোর, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম যশোর, যশোর সাহিত্য পরিষদ প্রমুখ।