নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর নতুন উপশহরে বীরমুক্তিযোদ্ধা অনানারী ক্যাপ্টেন আব্দুল হাই মোল্লার বসত বাড়ি সন্ত্রাসীরা দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি সন্ত্রাসীরা বাড়ির জানালা দরজা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আব্দুল হাই মোল্লার মেয়ে তাহা মারিয়াম যশোর পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করেন। এর আগে বাড়ি রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর ও কোতয়ালি থানায়ও অভিযোগ করেন। কিন্তু তাতে কোন সমাধান হয়নি। বরং কোতয়ালি থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বাড়ি দখলের ঘটনাটি জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ৫নং সেক্টরে সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে আব্দুল হাই অংশ গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৯৬ সালে ১৮ আগস্ট পুলিশে কর্মরত হাবিলদার এসএম আবুল ফজলের কাছ থেকে অবসরের টাকা দিয়ে যশোর হাউজিং এস্টেটের আওতাধীন ই- ১৩৮ নং বাড়িটি ক্রয় করেন। দীর্ঘ ২০ বছর ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। ২ জন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে বাড়ির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রাদি দিয়ে সমুদয় অর্থ নিয়ে বিক্রেতা আতœগোপন করে। এরপর বাড়ির মালিক আবুল ফজলকে না পাওয়ায় বাড়িটি আর রেজিষ্ট্রি করা হয় না। এ মতাবস্থায় ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে এস আই রহিম জনৈক নুরুন্নাহার বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে ই- ১৩৮ নং বাড়ি এসে বাড়ি ক্রয় সংক্রান্ত কাগজপত্রের ফটো কপি নিয়ে যায়। জনৈক নুরুন্নাহার ২০১৫ সালে আবুল ফজলের কাছ থেকে বাড়িটি ক্রয় করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি নিজেকে একজন এস পির মা পরিচয় দেন। তৎকালীন যশোরের এডিশনাল এসপি অফিসে বিষয়টি জানালে তিনি আদালতের মাধ্যমে মীমাংসার পরমর্শ দেন। এরপর জনৈক নুরুন্নাহার বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল ফজলের মৃত্যুর পর স্থানীয় সন্ত্রাসী মনিরুজ্জামান বাবু, সাদিকুল ইসলাম ও রাজিবসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ২০ মার্চ ওই বাড়িটি দখল করে নেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির আসবাব পত্র ভাংচুর করে বাইরে ফেলে দেয়। এমনকি বাড়ির জানালা দরজা খুলে নিয়ে যায়। বাড়ি দখলের ঘটনাটি কোতয়ালি পুলিশ জানার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।