নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার এক ধনী পরিবারের দুই ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন ওই দুইভাই ও তাদের সঙ্গিরা। পরিবারের অবাধ্য দুই ভাই হলেন আশরাফুল ইসলাম পিয়াল ও তার চাচাতো ভাই শাকিল ইসলাম।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে পিয়াল ও শাকিলের নেতৃত্বে বারান্দী মোল্লাপাড়ার মারুফ হোসেন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। এই ঘাটনায় কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে টাকার বিনিময়ে দুই ভাই এই অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেও তাদের সাথে থাকা অপর দুইভাই সাগর ও শোভনকে ফাঁসিয়েছে। পিয়াল ও শাকিল টাকার বিনিময়ে অন্য এলাকা থেকে উঠতি সন্ত্রাসীদের এনে বেজপাড়া মেইন রোড এলাকাকে অশান্ত করে তুলেছে। শহরের বেজপাড়া আনসার ক্যাম্প, মোল্লাপাড়া, আরএন রোড এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসীদের এনে মহড়া দিয়ে থাকে। এসব সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে পিয়াল ও শাকিলের গাড়ির ড্রাইভার আরএন রোডের বাবু ও ইয়াবা বাবু, আনসার ক্যাম্পের ইসারত, আকাশ, উপশহর এলাকার জীবন, বেজাপাড়ার সন্ত্রাসী বুনো আসাদের ছেলে আনিস, রাব্বি, রিক্ত ও শান্ত। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী শান্তকে চুরি হওয়া একটি দামি টেলিভিশনসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
এলাকাবাসী জানান, বেজপাড়া মেইন রোডে পিয়াল ও শাকিলের পিতাদের ৬ তলা বাড়ি রয়েছে। যদিও পাশের একটি আলাদা দ্বিতল বাড়িতে থাকেন শাকিল। দ্বিতল বাড়িটি সু-উচ্চ প্রাচীর ও গেট দিয়ে ঘিরে ফেলা। সেখানে গাড়ির গ্যারেজে চলে রাতভর জুয়ার আসর। জুয়ার টাকায় প্রায় তারা বনভোজন করেন। সেখানে চলে অসামাজিক কর্মকান্ড। গত ২০ জানুয়ারি বেজপাড়ার সাবেক পৌর কমিশনার রিয়াজ উদ্দিনের বাড়ির পাশের মটরপার্টস ব্যবসায়ী শাওনের বাড়িতে চুরি হয়। চোরের গ্রিল কেটে টেলিভিশন, সোনা ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। ওই চুরি যাওয়া টেলিভিশন অন্যত্র সরানোর সময় গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এলাকাবাসী শান্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। আটক শান্ত বখাটে পিয়াল ও শাকিলের শেল্টারে থাকে। ১৮ জানুয়ারি এমএসটিপি বিদ্যালয় এলাকায় ছিনতাই হয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা বিল্লালের কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাতও করে। ১৬ জানুয়ারি বেজপাড়া সিকদার পুকুর পাড়ে অতল বসু নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা নগর ১৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসব ছিনতাইয়ের সাথে পিয়াল ও শাকিলের লোকজন জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
তাদের অভিযোগ দ্ইুভাই পিয়াল ও শাকিল ধনী পরিবারের বখে যাওয়া সন্তান। পরিবারের অবাধ্য এই দুই ভাই নিজেদের গাড়ি বেপরোয়াভাবে ড্রাইভ করে। তাদের কেউ নিষেধ করলে তাদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থাকে। তাদের এক চাচা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে রয়েছেন। সেই জোরে তারা দুই ভাই বেপরোয়া জীবন যাপন করে। এমন কোন খারাপ কাজ নেই তারা করেনা। বিষয়টি শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। তারা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কোতয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক বিমান তরফদার জানান, মারুফ হোসেন ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বেজপাড়ার সাগর ও শোভনের নামে মামলা হয়েছে। তবে এর সাথে আরও যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। গতকাল এলাকাবাসী শান্ত নামে এক চোরকে কম্পিউটারের মনিটরসহ ধরে পুলিশে দিয়েছে। কেউ অরাজকতা করলে কোন ছাড় দেয়া হবেনা। আর অভিযুক্ত সাগর জানান, ছুরিকাঘাতের সাথে পিয়াল, শাকিল, ড্রাইভার বাবু জড়িত। আমার ভাই ঢাকায় রয়েছেন। তাকে মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে।
যশোর ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকার জানান, বেজপাড়া মেইন রোডকে যারা অস্থিতিশীল করছে তাদের ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। অপরাধে কেউ জড়ালে কাউকে রেহাই দেয়া হবেনা।