আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকীতে মধুমেলায় বিশিষ্ট লেখক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের নিরীক্ষার স্বভাব থেকে তাঁর সাহসের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর অভিনবত্বকে স্বীকার করেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের পথপরিক্রমায় হাঁটতে হবে। বাংলা কবিতায় ‘ক্ল্যাসিসিজম’ ও ‘রোমান্টিসিজম’ এর সংশ্লেষণ তাঁর মতো আরও কেউ করতে পারেননি। তাঁর সাহিত্যকর্মের আরও নতুন নতুন পাঠ দরকার। অনুষ্ঠানের ষষ্ঠ দিন বুধবার (২৯ জানুয়ারি) আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুধু পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশ নয়, বাংলাভাষী মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতার ইতিহাসে মাইকেলের অভিনবত্বকে স্বীকার করে নিয়েই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের পথপরিক্রমায় হাঁটতে হবে। প্রতিরোধের মঞ্চে জাতীয় ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তাঁকে সম্মান ও স্বাগত জানাতে হয়। দুইশ’ বছর পরেও মাইকেল মধুসূদনকে স্মরণ করা হচ্ছে। এর মানে, তিনি প্রশ্নাতীতভাবে অমর।
কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করে অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মের নতুন নতুন পাঠ তেমন একটি হয় না। অথচ তা বিশেষভাবে দরকার ছিল।
স্থানীয় সরকার যশোরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মধুমঞ্চে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হুসাইন শওকত, যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন, মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম-উদ-দ্দৌলা, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, মধুসূদন একাডেমির পরিচালক খন্দকার খসরু পারভেজ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোরের সদস্য ফাইয়াজ আহমেদ প্রমুখ। আলোচনা শেষে মধুমঞ্চে শিল্পী ইথুন বাবু ও মৌসুমী গান পরিবেশন করে দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস ও যশোরের অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের সহকারী শিক্ষক আফরোজা নাসরীন নীলিমা। উল্লেখ্য, আলোচনা সভার পূর্বে ও পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
