মহব্বত আলী, চুড়ামনকাটি: যশোরের চুড়ামনকাটির ঐতিহ্যবাহী মেহেরুল্লাহনগর রেলস্টেশনটির সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। রেলস্টেশনটি পুনারায় আধুনিকায়ন করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শাটল ট্রেন চালুর দাবি এলাকাবাসীর। শাটল ট্রেন চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় ও আর্থিক অপচয় রক্ষা পাবে।
কর্মবীর মুন্সি মেহেরুল্লাহ একজন দেশবরেণ্য ইসলাম ধর্ম প্রচারক ব্যক্তির নাম। বৃটিশ শাসনামলে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্মীয় সভা করে বেড়াতেন। যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে তাঁর জন্ম। মহান এই ব্যক্তির নামে ১৯১৩ সালে চুড়ামনকাটি বাজারের অদূরে প্রতিষ্ঠিত হয় মুন্সি মেহেরুল্লাহ রেল স্টেশনটি। এক সময় এই স্টেশনে সকল ট্রেন থামলেও বর্তমানে আর ট্রেন থামেনা।
১৯১০ সালে নির্মিত যশোর-ঝিনাইদহ ৪৬ কিলোমিটার ন্যারোগেজ রেলপথে ১২টি রেলস্টেশন করা হয়। যার মধ্যে চুড়ামনকাটিও ছিল একটি স্টেশন। যেটির পরর্বীতে নামকরণ করা হয় মুন্সি মেহেরুল্লাহ রেলস্টেশন। ১৯১৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে যশোর থেকে সর্ব প্রথম রেল যোগাযোগ শুরু হয়। পরে লোকসানের কারণে ১৯৩৩ সালে এই রাস্তায় রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৯৩৫-৩৬ সালে কোটচাঁদপুর দিয়ে বিকল্প একটি রেললাইন তৈরি করা হয়। বর্তমানে যশোর থেকে কোটচাঁদপুর দিয়ে পাকশী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রেল যোগাযোগ চলমান।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় ট্রেন থামলে যাত্রীদের হৈ হুল্লোরে গোটা এলাকা সরগরম হয়ে উঠতো। টিকিট কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করতেন স্টেশন মাস্টারসহ যাত্রীরা। দেশের সকল এলাকা থেকে ছেড়ে ট্রেনগুলো থামতো এখানে। রাতদিন সর্বদাই যাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকতো স্টেশনটি। কালের বিবর্তে সেই স্টেশনটি এখন অচল। শুধুমাত্র খুলনা থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল ট্রেন থামে এখন এখানে। নেই কোনো স্টেশন মাস্টার বা রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু পড়ে আছে সরকারি কোর্য়টারসহ বিভিন্ন অফিস। নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার সম্পদ।
স্থানীয় প্রবীণ নাগরিক অধ্যাপক মসিউল আযম জানান, যশোর জেলার সবচেয়ে পুরাতন রেল স্টেশন হল এই মুন্সি মেহেরুল্লাহ নগর। দেশের সকল ট্রেনই এক সময় এই স্টেশনে থামতো। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্টেশনে থাকতো যাত্রীদের ভিড়। বর্তমানে স্টেশনটি বন্ধ করে দিয়েছে রেল কৃর্তপক্ষ। কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিস রুম গুলো রক্ষণাবেক্ষনার অভাবে মূল্যবান সম্পাদ নষ্ট হচ্ছে।
বীরমুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে রেলস্টেশনটি বন্ধ থাকার কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ। স্টেশনটি পুনরায় চালু হলে এখনকার সবজি চাষিরা তাদের সবজি কম খরচে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে পারবে। তাতে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইবুর রহমান মোল্যা বলেন, শাটল ট্রেন চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ও স্বল্প খরচে যশোর শহর থেকে যাতায়াত করতে পারবে। তিনি দেশের খ্যাতিনামা মুন্সি মেহেরুল্লাহর নামে এই পুরাতন স্টেশনটি চালুর দাবি জানান।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়ার পর রেল স্টেশনটি পুনারায় চালু এখন প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর। তাদের দাবি যশোর স্টেশন থেকে মুন্সি মেহেরুল্লাহ রেল স্টেশন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শাটল ট্রেন ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীদের সময় ও খরচ অনেকটা কমতো। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটানার শংকাও কমবে।