বিভিন্ন মহলে ধর্ণা দিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না
আবরার জাওয়াদ:
গত কয়েক বছর ধরেই যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুুপানি জমে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থায় সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বর্তমানে রাস্তা থেকে মাঠ এক দুই ফুট নিচু। বৃষ্টি হলেই ডোবায় পরিণত মাঠটি। স্টেডিয়ামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় খেলা, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। এ নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে খেলোয়াড়, ক্রীড়ানুরাগীদের মধ্যে।
মাঠটি সংস্কারের দাবিতে মন্ত্রী, এমপি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদসহ (এনএসসি) বিভিন্ন মহলে দৌড় ঝাপ করছেন জেলা ক্রীড়া সংগঠকরা।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটি গঠন করা হয় ১৯৪৯ সালে। এর দশ বছর পর ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তানের গভর্নর জাকির হুসাইন।
একই সালের ১ মার্চ উদ্বোধন করেন তৎকালিন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল কুদ্দুস। এরপর ১৯৭৬ খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অর্থায়নে যশোর স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন শুরু হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অর্থায়নে ১৯৯৪-৯৫ সালে নির্মিত হয় বর্তমানের জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস সংলগ্ন ভিআইপি গ্যালারি। এছাড়া নানা সময়ে ব্যক্তিগত অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে নানা স্থাপনা।
দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবার প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আমেনা খাতুন ক্রিকেট গ্যালারির পশ্চিম পাশ থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস পর্যন্ত শুরু হয় ২১ ফুট উঁচু ও ৫০০ ফুট লম্বা গ্যালারি নির্মাণের কাজ।
উন্নয়নের মাস্টার প্লানের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট গ্যালারি বাকি কাজ পরবর্তীতে হবে বলে জানান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির।
গ্যালারি নির্মাণের থেকে বর্তমানে মাঠে মাটি ভরাট করা বেশি প্রয়োজন বলে জানান ক্রীড়া সংগঠকরা। কারণ রাস্তা থেকে মাঠের অবস্থান এক দুই ফুট নিচে। সামান্য পানি হলেই বাইরের পানি এসে জমা হয় মাঠে।
আবার পানি নিস্কাষনেরও কোন ব্যবস্থা নেই। তবে মাঠে মাটি ভরাটের কোন বিকল্প নেই। আর জন্য প্রয়োজন দুই থেকে তিন কোটি টাকা। আর এই কাজটি জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্রীড়া সংগঠকরা মন্ত্রী, এমপি, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদসহ বিভিন্ন যায়গায় ধর্ণা দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কয়েক দফা বাজেট প্রণয়ন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।
যশোরের সাথে সারা দেশের যোগাযোগের জন্য রয়েছে সকল ধরনের ব্যবস্থা। সেই ধারণা থেকে যশোরবাসী মনে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত পুরাতন শামস্ উল হুদা স্টেডিয়ামটি একদিন আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে পরিণত হবে।
যশোর জেলা ফুটবল দলের কোচ আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে মাঠের ভেতর ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যা খেলোয়াড়দের মারাত্মক ঝুঁকি। যদিও এখনো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে মাঠ সংস্কার না হলে যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির জানান, রাস্তা থেকে মাঠ নিচু হয়ে যাওয়ায় অল্প বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে। এজন্য ৮ মাস খেলা হলে বাকি ৪ মাস খেলা হয়না। বর্তমানে শীতের মৌসুম বলে মাঠে খেলা করা যাচ্ছে। তবে মাঠি দিয়ে উঁচু করতে না পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে কোন ভাবে খেলা মাঠে গড়ানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, দেশের সব খেলার মাঠ দেখভালের দায়িত্ব জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের। ইচ্ছা করলেই মাঠ সংস্কার করা যায়না। মাটি ভরাটের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। এর জন্য বাজেট প্রণয়ন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।