নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইসিজি বিভাগের প্রায় ৪০ লাখ টাকা অডিট আপত্তি নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজই শুরু করতে পারেনি। অথচ অভিযুক্ত ইসিজি বিভাগের সাবেক ইনচার্জ দীপক রায় দাবি করেছেন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে কোন ঘাপলা পাননি। ইসিজি পেপার ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় আছে বলেও নাকি তদন্ত কমিটি তথ্য পেয়েছে। তার এ মিথ্যা তথ্যে অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র মতে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অডিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইসিজি শাখায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ টাকা অডিট আপত্তি উথাপিত হয়। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যার স্মারক নং-২৫০শঃ বিঃ জেঃ হাস/যশোর/শা-০৫/২০২২/৪৯৭৮/৮।
এ নিয়ে ১৭ মার্চ দৈনিক কল্যাণে ‘ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকা ঘাপলা ধরা পড়লো অডিটে’ রিপোর্ট প্রকাশ হয়। ৯ মার্চ গঠিত তদন্ত কমিটির সূত্র ধরে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।
স্মারক সূত্র মতে, অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যশোর মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমানকে সভাপতি ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিপাঞ্জন সাহাকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু ও হাসপাতালে জুনিয়র কার্ডিওলজি ডা. তৌহিদুল ইসলাম। তাদের তদন্ত করে ১৫ মার্চের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে জমা পড়েনি। এখনো তদন্তই শুরু করতে পারেনি কমিটি।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে দৈনিক কল্যাণ থেকে সোমবার রাত ৭ টা ২৫ মিনিটে ফের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামানের সাথে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি এখনো তার কাছে কোন প্রতিবেদন দেয়নি।
জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু গতকাল রাত সাড়ে ৮ টার দিকে বলেন, তারা এখনো তদন্ত শুরু করতে পারেননি। আরেকটু সময় লাগবে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন না পেলেও প্রতিবেদন দিয়েছেন দাবি করেছেন অভিযুক্ত ইসিজি বিভাগের সাবেক ইনচার্জ দীপক রায়। শুধু তাই নয়, তদন্তে ইসিজি পেপার অব্যবহৃত অবস্থায় আছে বলেও তিনি একটি পত্রিকায় সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যা রীতিমতো মিথ্যাচার বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।