রায়হান সিদ্দিক: ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে যশোরে জেলা প্রশাসকের আয়োজনে মুজিব নগর দিবস ও স্বাধীনতা শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি সেদিন মুজিবনগর সরকার গঠিত না হতো, তাহলে হয়তো আমরা আজ একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না। এই মুজিবনগর সরকারই মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীনতাকামী মানুষদের মধ্যে মুজিবনগর সরকার সব থেকে বেশি আস্থা ও সাহস যোগাতে পেরেছে।
আলোচনা সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গঠনে অবদান রাখবে। তবে বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি- একশ্রেণির মানুষ বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সকলকে এই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এবং বাংলাদেশে বিরোধীদের প্রতিহত করতে হবে না হলে আগামী প্রজন্ম একটি ভূল সংস্কৃতি চর্চায় বড় হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল না। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর, বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চারনেতার হত্যার বিচার করেছে। এবং ২০০৯ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠা করে মানবতাবিরোধী অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে। তবে এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে ।
যুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিববাহিনীর উপপ্রধান রবিউল আলম বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। এরপর এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। এই ইতিহাস বর্তমান প্রজন্ম কতটুকু জানে! আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের ভেতর ছড়িয়ে দেয়া। যাতে করে এই প্রজন্ম বিভ্রান্তের ভেতর না পরে।
আলচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির, স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক হুসাইন শওকত, পৌর মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, যশোর সংবাদ পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, বীরমুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সুকুমার দাস, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল প্রমুখ।