নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরেই তৈরি হচ্ছে কোরিয়া, চায়না ও ভারতের লেবেল দিয়ে মোড়ক করা গবাদি পশু ওষুধ। সেই ওষুধ পৌছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিশ্চিন্তে সেসব ওষুধ গবাদি পশুর উপর প্রয়োগও চলছে দেদারছে।
সোমবার যশোরের উপশহর ই ব্লকে ইম্পেরিয়াল ইউনাইটেড ফার্মা লিমিটেড নামক একটি গবাদি পশুর পুষ্টি প্রিমিক্স উৎপাদন কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালে এমন তথ্য বেরিয়ে আসে। এছাড়াও অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক মোশারফ হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুপ দাসের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তপু কুমার সাহা।
অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনুপ দাস জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই গবাগি প্রাণির ওষুধ উৎপাদন করে আসছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটি ২৭ প্রকার ওষুধ উৎপাদন করে থাকে।
কিন্তু এর মধ্যে ছয় প্রকার ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন রয়েছে। বাকি ২১ প্রকার ওষুধ অনুমোদন ছাড়াই উৎপাদন ও বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোন রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই কর্মীরা হাত দিয়ে ওষুধ উৎপাদন ও মোড়কজাত করছে, যা নিয়ম বহির্ভূত।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় উৎপাদিত ওষুধে কোরিয়া, চায়না ও ভারতের লেবেল দিয়ে মোড়ক তৈরি করে বাজারজাত করছে। যা বড় ধরনের প্রতারণা। অভিযান শেষে অনুমোদনহীন ওষুধ জব্দ করে উপস্থিত জনসাধারণের সামনে ধ্বংস করা হয়।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোশারফ হোসেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশপোল গ্রামের আব্দুর ছাত্তারের ছেলে। ২০১৩ সালে এফএস এগ্রোভেট নামক একটি গবাদি প্রাণির ওষুধ বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন। সেখানে চার বছর চাকরি করার সুবাদে গবাদি পশুর ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণের উপর তার ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তখন পরিকল্পনা করেন নিজেই একটি গবাদি পশুর ওষুধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান করবেন। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইম্পেরিয়াল ইউনাইটেড ফার্মা লিমিটেড নামে এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। প্রথমে ৬ প্রকার ওষুধ উৎপাদন করলেও পরবর্তীতে অধিক লাভের আশায় অনুমোদন ছাড়া আরও ২১ প্রকার ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করেন। এর ভেতরে কিছু ওষুধের মোড়কে কোরিয়া, চায়না ও ভারতের লেবেল লাগিয়ে বাজারজাত করেন বিক্রি বৃদ্ধির জন্য।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোশারফ হোসেনের তথ্য অনুযায়ী খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত তার প্রতিষ্ঠানের এই ওষুধ সরবরাহ হয়ে থাকে। প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ টাকার ওষুধ উৎপাদন করে তার প্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল ইউনাইটেড ফার্মা লিমিটেড।
