সুনীল ঘোষ: মঙ্গলবার থেকে যশোরসহ দেশের ৯ জেলায় বসেছে বইমেলা। যশোরে গতকাল থেকে মেলায় আসতে শুরু করেছে লেখক ও পাঠক। দিন যত যাবে মেলা তত জমবে বলে আশা করছেন লেখক, পাঠক ও স্টল কর্তৃপক্ষ।
৬ ডিসেম্বর দেশের সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর। এদিন থেকে টাউনহল ময়দানে বসেছে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা। তবে মেলার দ্বিতীয় দিন (বুধবার) মাঠে সেভাবে পাঠক- ক্রেতার কোলাহল দেখা যায়নি। বুধবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় কিছু দর্শনার্থীকে মাঠে আসতে দেখা যায়।
প্রথমা প্রকাশন স্টলের নির্বাহী হাবিবুর রহমান বলেন, এখন স্কুল-কলেজে পরীক্ষা চলছে। যেকারণে মেলায় লোকসমাগম কম। তিনি বলেন, আশা করছি দুই-একদিনের মধ্যে বইমেলা জমজমাট হয়ে উঠবে। প্রথমদিন স্টলটিতে সর্বসাকুল্যে বেচা-বিক্রি হয় দুই হাজার টাকার বই। এরমধ্যে রয়েছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত আকবর আলী খানের লেখা ‘সেই পুরনো দিনের কথা’। বইটির দাম করা হয়েছে ৬৫০ টাকা। তবে কমিশন ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে সাড়া জাগানো এই বইটি। স্টলটিতে রয়েছে ২০ জন লেখকের প্রায় ৫শ’ বই।
মেলায় স্টল রয়েছে বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের। সংগঠনটির সহসভাপতি নূর জাহানারা নীতি জানান, মেলায় দ্বিতীয় দিনে যশোরের লেখক আহাদ আলীর ৮টি বই বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ঢেউ কাদে মরু নদে, কানকুট ও প্রত্যাবর্তন স্মরণে-মরণে। দ্বিতীয় দিনে লোকসমাগম কম উল্লেখ করে লিপি বলেন, এতে আমরা হতাশ না। শেষ দিকে মেলা জমে উঠবে। মেলার মেয়াদ কয়েকদিন বাড়তে পারে বলেও ধারণা তার।
স্টলটিতে ঠাঁই পেয়েছে এম বদিয়ার রহমানের দুটি বই। পাশ্চত্য সাহিত্যতত্ত্ব ও সাহিত্য সমালোচনার পদ্ধতি এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য নামের বই দুটি বুধবার স্টলে আনা হয়।
লেখক এম বদিয়ার রহমান বলেন, বই মেলা, বাঙালির প্রাণের মেলা। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যের মেলা। উৎসবমুখর বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘বইমেলা’ বৃথা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, হতাশার কিছু নেই। সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন অভিভাবকরা। ছুটির দিনে মেলায় বই পিপাসু মানুষের বিপুল সমাগম ঘটবে বলে ধারণা তার।
বিশিষ্ট কলামিস্ট, লেখক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম রন্টু দৈনিক কল্যাণকে বলেন, পাঠক ঝুঁকে পড়েছে গান-বাজনা ও খেলার দিকে। যেকারণে আশানুরুপ লোকসমাগম ঘটেনি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রওশন আরা রাসু বলেন, ইতিমধ্যে মেলা জমে উঠছে। সামনের দিন আরও লোকসমাগম ঘটবে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহযোগিতায় দেশের ৯টি জেলায় বই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির যশোর জেলা শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, বইমেলার উদ্দেশ্য বেশি বেশি বই বিক্রি না।
বইমেলা বাঙালির প্রাণের স্পন্দন। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বইয়ের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে বইমেলা বা গ্রন্থমেলা অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কাগজ ও মুদ্রণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে বই’র দাম বাড়েনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।