নিজস্ব প্রতিবেদক
মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন (এমএমডিএফ) বাংলাদেশ এর আয়োজনে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় বিতর্ক উৎসব ও ইয়ুথ কার্নিভাল ২০২৩। সকালে বর্ণাঢ্য উৎসব শোভাযাত্রা মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। উৎসব শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন প্রেসক্লাব যশোরের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান। র্যালি শেষে শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি এম এম কলেজ যশোরের অধ্যক্ষ প্রফেসর মর্জিনা আক্তার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সুরধনী সংগীত নিকেতনের সভাপতি হারুন অর রশীদ, সরকারি এম এম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহজাহান কবির, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান বকুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাদাত রহমান এবং এমএমডিএফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বায়জিদ মাহামুদ অভি।
শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এমএমডিএফ বাংলাদেশের সভাপতি শ্রাবনী আক্তার বন্যা। শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে বিশেষ অতিথিগণ অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকদের উদ্দেশ্যে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় গতানুগতিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের যুক্ত হবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারা।
উৎসব উদযাপনের আহ্বায়ক দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিনের সভাপতিত্বে বিতর্ক চর্চার প্রয়োজনীয়তা ও ক্যারিয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘ক্যারিয়ার এবং বিতর্ক’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়।
পর্বটিতে প্রশিক্ষক ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলে মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মো. জহির ইকবাল। এ পর্বটি শেষে ইংলিশ বিতর্ক প্রশিক্ষণ ও শো-ডিবেট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় মডারেটর হিসেবে বিতর্ক পরিচালনা করেন সরকারি মহিলা কলেজ যশোর এর প্রভাষক দীপ্তি মিত্র। ইংলিশ বিতর্ক প্রদর্শনী শেষে ‘তরুণদের ভাবনায় আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ’ পর্র্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্তিতে আন্তর্জাতিক শিশু নোবেল বিজয়ী সাদাত রহমান এবং আরো উপস্থিত ছিলেন, এরপর ধারাবাহিকভাবে সনাতনী ও আঞ্চলিক বিতর্ক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। আঞ্চলিক বিতর্কে অংশগ্রহণ করে কুমিল্লা জেলার দূর্বার ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আরিফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেলার তারুণ্য-৭১ এর সভাপতি মীর আতিক আহমেদ, পাবনা জেলার ইয়েস ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাহাত হোসেন পল্লব ময়মনসিংহ, খুলনা জেলার ইচ্ছে ফাউন্ডেশন এর সভাপতি আবু তাহের প্রিন্স, নোয়াখালী জেলার সোহাগ হাওলাদার, ঝিনাইদহ জেলার তাবাস্সুম আক্তার ইভা ও যশোর জেলার জিহর ইকবাল সহ বেশ কিছু জেলা। এ সময় মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে দর্শক গ্যালারি।
দিনব্যাপী নানা বিতর্ক প্রদর্শনী শেষে জাতীয় বিতর্ক উৎসবের সমাপনী পর্র্ব অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক আমজাদ হোসেন খান। এ পর্বে এমইউসি ফুডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্যামল দাস এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ, যশোর সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, দৈনিক গ্রামের কাগজ সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন এবং এমএমডিএফ বিডির প্রতিষ্ঠাতা জহির ইকবাল নান্নু। এ পর্বে অতিথিগণ বক্তব্য প্রদান শেষে বিতর্ক উৎসবে আয়োজিত বাংলা ও ইংরেজি উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের বিতার্কিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিতার্কিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের মাঝে বিতর্ক, সৃজনশীল কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে অবদান রাখায় সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। সমাপনী পর্ব শেষে বাংলাদেশের কৃষ্টি ও কালচার নির্ভর ফ্যাশান শো প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
