নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে বিএনপির সমাবেশের আগের দিন শুক্রবার শক্তির মহড়া দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। জেলার ৮ উপজেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে এদিন বিকালে শহরের টাউন হল ময়দানে বড় সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। দলীয় প্রধানকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করলেও মূলত এটি ছিলো জেলা আওয়ামী লীগের শক্তির মহড়া বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশে নেতাকর্মীদের হাতে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে অংশ নিতে দেখা গেছে। সমাবেশ শেষে সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদকের নেতৃত্বে বাঁশ ও লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি সমাবেশস্থল শহরের টাউন হল ময়দান থেকে বের হয়ে দড়াটানা ঘুরে চৌরাস্তা থানা মোড়ে যেয়ে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, আজ শনিবার যশোরে সমাবেশ করবে বিএনপি। এতে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এই সমাবেশের আগের দিন শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বড় বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ।
সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রকাশ্য জনসভায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির মধ্যদিয়ে বিএনপির হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির নীলনকশা আবারও দেশের মানুষের কাছে প্রমাণিত হয়েছে। রাজশাহী বিএনপি নেতা চাঁদের হত্যার হুমকি বিষয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য প্রমাণ করে তারা ঐতিহ্যগতভাবেই একটি খুনির দল। নেতৃবৃন্দ বলেন যশোরের মাটি শেখ হাসিনার ঘাঁটি। এই মাটিতে বিএনপির অপরাজনীতি করতে দেয়া হবে না। বিএনপি আজ নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা বিগত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলেও দেশের জনগণ সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের জনগণ আবারও বিপুল ভোটে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে জনগণের সেবা ও দেশ পরিচালনার সুযোগ প্রদান করবে।
সমাবেশে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, তারেক জিয়ার ইন্দনে শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে রাজশাহী বিএনপি নেতা আবু সাঈদ চাঁদ। লন্ডনে তারেক জিয়ার মৃত্যু হলে তার লাশ বাংলাদেশে প্রবেশ করবে না। আওয়ামী লীগ পুনরায় নৌকা প্রতীকে সরকার গঠন করবে, এই ভয়ে বিএনপি-জামায়াত নানা ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে একত্রিত হয়ে বিএনপির ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করার আহ্বান করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি বলেন, যশোরে বিএনপি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ পাঠিয়ে দিবো, ঠাণ্ডা তারা করে দিবো। বিএনপি হুমকি দিয়েছে শনিবার যশোর নাকি অচল করে দিবে। দেশের অন্য জেলার কথা বলতে পারবো না, তবে যশোরে অগ্নিসন্ত্রাস করতে এলে বিএনপিকে ঘরে থাকতে দেবো না।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, যশোর পৌর মেয়র হায়দার গণি খান পলাশ, যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, যশোর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুন্সী মহিউদ্দিন, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক শেখ আতিকুর বাবু, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লুৎফুল কবীর বিজু, কৃষকলীগে সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লাইজু জামান, সাধারণ সম্পাদক জোৎস্ন্যা আরা মিলি, শ্রমিক লীগের সভাপতি সাইফুর রহমান, যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জুয়েল, রওশন ইকবাল শাহী, জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি মুঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজীব নওশাদ পল্লব। সমাবেশটি সঞ্চলনা করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু।
এদিকে, ২৪ ঘণ্টার নোটিশে সমাবেশস্থ হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান থেকে দড়াটানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়। দুপুরের পর থেকেই অন্যসব উপজেলাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মিছিল সমবেত হয় ময়দানে। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান মিন্টু, হুমায়ুন কবীর কবু, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সর্দার ওলিয়ার রহমান, বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান, চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়লসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আজ বিএনপির বিক্ষোভ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে তাদের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। একই দিন শহরের টাউন হল মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি শ্রমিক সংগঠনকে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। যশোর জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) বেলাল হোসেন বলেন, একই দিনে দুটি সমাবেশ হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার শঙ্কা নেই। কারণ, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার জন্য পুলিশ দুই পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে।
