# কোথাও বসতি, কোথাও স্থাপনা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা
# প্রতি মাসেই অগ্রগতি প্রতিবেদন চায় প্রশাসন
# মামলা-সিদ্ধান্তের আটকে থাকে ফাইল
তবিবর রহমান
সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে মামলা হয়েছে। উচ্ছেদের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে। জেলা প্রশাসনের ভূ-সম্পত্তি জবরদখলসংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স কমিটির সভায় নেওয়া হয়েছে একের পর এক সিদ্ধান্ত। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি অনেক সরকারি জমি। কোথাও সরকারি জমিতে গড়ে উঠেছে বসতি, কোথাও রাস্তা, খাল ও জলাশয়ের জমিতে নির্মিত হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। আবার কোনো কোনো মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞায় থমকে আছে উচ্ছেদ কার্যক্রম।
যশোর জেলা প্রশাসনের ভূ-সম্পত্তি জবরদখলসংক্রান্ত জেলা টাস্ক ফোর্স কমিটির সভার কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে সরকারি জমি উদ্ধারে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক অগ্রগতির সীমাবদ্ধতার এই চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সদর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও ঝিকরগাছা উপজেলার একাধিক উচ্ছেদ মামলা নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলা এক দশকেরও বেশি পুরোনো। তবে এসব মামলায় সরকারি জমি উদ্ধার কিংবা মামলা নিষ্পত্তির দৃশ্যমান অগ্রগতি কম।
এক যুগেও উদ্ধার হয়নি ১.৮৯ একর জমি :
যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর মৌজায় ১২৭ ও ১২৯ নম্বর খতিয়ানের ৪৬২ ও ৪৬৩ নম্বর দাগে ১ দশমিক ৮৯ একর সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ মামলা করা হয় ২০১২-১৩ অর্থবছরে। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও জমিটি এখনো দখলমুক্ত হয়নি।
জেলা টাস্ক ফোর্সের সভায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, ওই জমিতে বাস্তুহারা পল্লি গড়ে উঠেছে। সেখানে ৭৫টি টিনশেড ঘরে ৭৫টি পরিবার বসবাস করছে। অর্থাৎ, সরকারি জমি উদ্ধারে মামলা হলেও বাস্তবে সেখানে স্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে।
দেওয়ানি মামলায় আটকে একাধিক উচ্ছেদ :
সদর উপজেলার রূপদিয়া মৌজায় ০.১৭২৮ একর সরকারি জমি থেকে আটজন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মামলা করা হয়। তবে সম্পত্তি নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলমান থাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমের অগ্রগতি থেমে আছে।
একই উপজেলার গাদগাছি মৌজায় খাল শ্রেণিভুক্ত জমি থেকে চারজন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের মামলাটি করা হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে। সভায় জানানো হয়, ওই সম্পত্তি নিয়ে ১৫৫/২০১৫ নম্বর মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া ভায়না মৌজায় ঘাট শ্রেণিভুক্ত জমি, ডিহি কনেজপুর ও কাশিমপুর মৌজায় কাঁচা রাস্তার জমি এবং উত্তর ললিতাদাহ মৌজায় আরও একটি রাস্তার জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, দখলদার উচ্ছেদের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আর চারটি স্থানের দখল বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞায় থমকে অভয়নগরের জমি উদ্ধার :
বাঘারপাড়া উপজেলার দুর্গাপুর মৌজায় ০.০৫১৯ একর গর্ত শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমিতে অননুমোদিত স্থাপনা উচ্ছেদের মামলা করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভয়নগর উপজেলার ৫৮ নম্বর শংকরপাশা মৌজায় ০.০৬৪২ একর জমি দখলমুক্ত করার মামলা রয়েছে।
তবে শংকরপাশার ওই জমি নিয়ে ২০২২ সালে দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। ফলে উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সরকারি কৌঁসুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আদালতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ঝিকরগাছায় পুরোনো মামলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন দখল :
ঝিকরগাছা উপজেলার জগদানন্দকাটি মৌজায় ৪৯ শতক সরকারি জমি থেকে নয়জন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের মামলা করা হয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলাটির মাধ্যমে জমি উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে বারবাকপুর মৌজায় একই খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে কাঁচা রাস্তা ও ডাঙ্গা শ্রেণিভুক্ত সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একাধিক মামলা করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাংশু বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় মোট সাতটি স্থানে দখল উচ্ছেদে জেলা ভূ-সম্পত্তি জবরদখলসংক্রান্ত জেলা টাস্ক ফোর্স কমিটি থেকে আমাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পত্র পাওয়ার পর সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপজোক করে দ্রুত উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
