নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে গত ১৭ বছরে মরণব্যাধি এইচআইভি এইডসে আক্রান্ত হয়েছে ১৪৬ জন। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে যশোর। রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে এইচআইভি প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক পেশাজীবীদের মতবিনিময় সভায় এ সব তথ্য দেন জেলা এফপিএবি কর্মকর্তা ও জেলা এইচআইভি এইডস প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন আবিদুর রহমান।
যশোর রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কনফারেন্স রুমে এ সভার আয়োজন করে ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটি (ডাম কনসোর্টিয়াম)। সভায় প্রধান অতিথি সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ^াস বলেন, যশোরে যেভাবে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তা আমাদের জন্যে একটি সতর্কবার্তা। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়াতে এই জেলাটিতে এইডস-এ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইচআইভি আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জানেন না তারা কীভাবে সংক্রমিত হলেন। তাই সব শ্রেণির মানুষের মধ্যেই সচেতনতা দরকার। যশোরে এখনও এইডস রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোনো সেন্টার নেই। এ জন্য রোগীদের খুলনায় পাঠাতে হয়। তবে আগস্ট মাসে যশোরে এইডস রোগীদের চিকিৎসায় এআরটি সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এটি স্থাপিত হলে এইডস রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুলনায় ছুটতে হবে না।
তিনি জানান, কয়েকদিন আগে যশোর এমএম কলেজের তিন শিক্ষার্থীর শরীরে এইচআইভি ধরা পড়েছে। তারা তিনজন একই সঙ্গে থাকতেন। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে এইচআইভি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিকের সভাপতিত্ব সভায় বক্তব্য রাখেন মেডিকেল অফিসার (সিএস) ডা. রেহেনেওয়াজ, ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটি (সিএমকেএস) কনসোর্টিয়াম সাব-ডিআইসি ইনচার্জ মিলন ম-ল, এইডস প্রতিরোধ কমিটির ফোকালপার্সন আবিদুর রহমান, এইচআইভি কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সুদেব কুমার বিশ্বাস, যশোর পৌরসভার কাউন্সিলর নাছিমা আক্তার জলি, সাংবাদিক তৌহিদ জামান।
জেলা এইডস কমিটির তথ্য মতে, যশোরে ২০০৬ সাল থেকে এইচআইভি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ২০০৬-২০২২ পর্যন্ত ১৪৬ জন নারী-পুরুষের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৮ সালে দুজন, ২০১০ সালে সাতজন, ২০১১ সালে ছয়জন, ২০১২ সালে নয়জন, ২০১৩ সালে আটজন, ২০১৪ সালে ২৩ জন, ২০১৫ সালে ৩৩ জন, ২০১৬ সালে ১৩ জন, ২০১৭ সালে আটজন, ২০১৮ সালে ছয়জন, ২০১৯ সালে ১০ জন, ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১ সালে একজন এবং ২০২২ সালে ১০ জন। এরমধ্যে এইডস রোগী সংখ্যা ২০ জন। এদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী ও শিশু।
