নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র মাহে রমজানে অগ্রাধিকার তালিকার ভিত্তিতে ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। একই সঙ্গে আসন্ন বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে এবং কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার যশোর সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পবিত্র মাহে রমজানে তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে-দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরই রমজান শুরু হয়েছে, একই সময়ে সেচের চাপও রয়েছে। তারপরও ইফতার, তারাবি ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি স্বীকার করেন, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে এই ঘাটতি সামাল দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কাজ চলছে। “অতীতের চেয়ে মানুষ যেন ভালো কিছু অনুভব করে—সেটি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের পক্ষ থেকে প্রশ্ন বা অভিযোগ যত কম উত্থাপিত হবে, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল,” বলেন তিনি।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রক্তপাতের পর জনগণ ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নতুন সরকারকে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক বেশি। সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে জনগণ তাদের সমস্যার কথা বলতে চায় এবং তার সমাধানও প্রত্যাশা করে। সে জায়গা থেকে বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গ্রিড ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যাতে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারে। সমগ্র বাংলাদেশকে আধুনিক গ্রিড ব্যবস্থার আওতায় আনার পাশাপাশি নিজের এলাকার সন্তান হিসেবে যশোরবাসীর দাবি ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখানো আমার নৈতিক দায়িত্ব।”
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে জনগণের সঙ্গে সামাজিক চুক্তি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে। সেই ইশতেহার এখন রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারে পরিণত হয়েছে। “আমরা ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এখানে ব্যর্থতার সুযোগ নেই—সফল হতেই হবে,” বলেন তিনি।
আসন্ন ইরি মৌসুমে সেচ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতি ধাক্কা খাবে। অতীতের মতো বিদ্যুৎ বিভাগ নিয়ে যেন মানুষের অভিযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুজ্জামান। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তা আবু সাইদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ
- বিদ্যুৎ সাশ্রয় : সারাদেশে রাত ৮টার মধ্যে সব দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত
- ইফার বই বিক্রয় সহকারী নজরুল কোটিপতির রহস্য কী ?
- এসএসসিতে নকল ঠেকাতে কঠোর যশোর শিক্ষা বোর্ড
- হেঁটে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি
- জ্বালানিতে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী অমিত
- রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, যাত্রীর উদ্ধারে অভিযান শুরু
- ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে দেশব্যাপী এক মিনিট ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি
- ইরান যুদ্ধে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ
