শ্যামনগর প্রতিনিধি: সুন্দরবনের দুবলার চরের (আলোর কোল) রাস মেলায় সরকারিভাবে ডিউটি শেষে বুড়িগোয়ালীনি ফরেস্ট ঘাটে ট্রলার আটক করে উৎকোচের দাবি করছে বনবিভাগ। এ বিষয়ে ট্রলার মালিক বন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সূত্র জানায়, সুন্দরবনের দুবলার চর (আলোর কোল) পূর্ণিমার রাস মেলায় তীর্থযাত্রী ও দর্শন যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার ডিউটির জন্য জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনের এএসআই সাইফুর রহমান ৪ কনস্টেবলসহ শ্যামনগর থানার এসআই রিপন মল্লিক গত ৬ নভেম্বর বুড়িগোয়ালিনী নীলডুমুর ঘাট থেকে রিপন ও সোহেলের ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস মেলায় ডিউটিতে যান।
ডিউটি শেষ করে নির্ধারিত পথে গত ৮ নভেম্বর বিকালে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট ঘাটে নোঙ্গর করলে পুলিশ সদস্যরা উপরে উঠে আসে। এ সময় বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ট্রলারে একজন লোক বেশি যাওয়ার অপরাধে আটক করে। পরবর্তীতে ট্রলারটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য স্টেশন কর্মকর্তা ট্রলার মালিকের কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। ট্রলার আটকের বিষয়ে রিপন ও সোহেল সাংবাদিকদের মাধ্যমে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ও সহকারী পুলিশ সুপার কালিগঞ্জ সার্কেলকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ ও কালিগঞ্জ সার্কেল এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তারা বলেন এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্চ কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। রাস মেলার ডিউটি নিয়ে কোন ঝামেলা নেই। তবে ট্রলার মালিকের সাথে কোন ঝামেলা রয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জ কর্মকর্তার মুঠোফোন বারবার যোগাযোগ করেও ফোনটি রিসিভ করেননি। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা নুরুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন একজন লোক বেশি থাকায় ট্রলারটি আটক করা হয়েছে।
সেই লোকটির জরিমানা না করে ছেড়ে দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া টাকা চাওয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। গরিব অসহায় ট্রলার মালিকগণ বন বিভাগের ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।