কি নেই অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে? আছে জনপ্রিয় শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার, মানুষের বাসোপযোগী সুন্দর পরিবেশ রক্ষায় আছে পরিবেশ অধিদফতর, আছে করিৎকর্মা প্রশাসন, আছে সচেতন পরিবেশবাদী সংগঠনসহ আরো অনেক কিছু। কিন্তু নেই কোনো কিছুর বাস্তবায়ন। সব ক্ষেত্রে একটা হযবরল অবস্থা। এ অবস্থা স্থায়ী হয়ে গেছে যেন। অথচ যে যার স্থান থেকে অর্পিত দায়িত্বটুকু পালন করলেই নিশ্চিত বলা যায় দেশটা সোনার দেশ হতে বেশি দেরি লাগবে না।
শব্দ দূষণের কথাই বলা যাক। এর ভয়াবহতা যে কত বড় মারাত্মক তা সরকার, পরিবেশ অধিদফতর, প্রশাসন এবং পরিবেশবিদরা ভালোভাবেই জানেন। কিন্তু তা প্রতিরোধে কোনোই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। যার কারণে এবার শব্দদূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহর ঢাকা। রাজশাহীর অবস্থান চতুর্থ, তথ্য জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনএপি) সর্বশেষ প্রতিবেদন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার কথা উলে¬খ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাসিক এলাকার জন্য অনুমতিযোগ্য শব্দের মাত্রা ৫৫ ডিবি (ডেসিবেল) এবং বাণিজ্যিক এলাকার জন্য ৭০ ডিবি। সেখানে ঢাকায় শব্দের মাত্রা ১১৯ ডিবি এবং রাজশাহীতে ১০৩ ডিবি পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য মতে শব্দ দূষণের ফলে শিশুদের মধ্যে বর্বরতার হার বাড়তে থাকবে। তারা লেখাপড়ায় অমনোযোগী ও বিকার মানসিকতা সম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠবে। এর ফলে আগামী প্রজন্ম মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ঘুমের ব্যাঘাত সৃষ্টিসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সব চেয়ে বিষ্ময়কর বিষয় হলো এ বিষয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। বরং যারা এর প্রতিকার করবে তারাই সৃষ্টি করছে বেশি। বিভিন্নভাবে সীমাহীন উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার করে বারোটা বাজানো হচ্ছে পরিবেশের। এর পর আছে যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন, যা পাহাড়ী এলাকার রাস্তায় আশ্রয় নেয়া বন্য প্রাণি তাড়তে ব্যবহৃত হয়, শহরে ইঞ্জিনের শব্দ, ফিটনেসহীন যানবাহনের বিকট আওয়াজ প্রভৃতি। মানুষের শব্দের সাধারণ ধারণ ক্ষমতা ৩০ ডেসিবল। কিন্তু এর মাত্রা স্থান ভেদে ৭৮ থেকে ১০৬ ডেসিবল। শব্দ দূষণের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে উপরোক্ত সমস্যায় ভারাক্রান্ত হবে দেশ।
শব্দ দূষণ রোধে কেউ কোনো কথা বলছেন না। সব রাজনৈতেক দলের লোকজনকে ব্যাপকভাবে শব্দ দূষণ করতে দেখা যায়। একটি জনসভা যদি হয়, তার আগে ১৫ দিন ধরে উচ্চ শব্দে মাইকিং চলতে থাকে। তার ওপর সভাস্থল থেকে বহুদূরে মাইক সেট করে শব্দ দূষণ বিস্তৃত করা হয়। এ থেকে বাদ নেই ধর্মীয় সভা-সমাবেশকারীরাও। তারা যেন এরা এক ধাপ ওপরে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিষয়টা দেশে তেমন কোনো বিষয় নয়। শব্দ ধষণের বিষয়টিকে কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। অথচ জাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ কারণে।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় শব্দ দূষণ বিধিমালা কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি, পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সর্বোপরি এ পরিস্থিতি থেকে জনগণকে মুক্ত করতে প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা।