নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ বছর ধরে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভনে বারবারে শারীরিক সম্পর্ক করতেন আকিকুল ইসলাম আকি। গত ৯ জুলাই রাতে সুফিয়া বেগম রাজি না হলে জোরজবরদস্তি করার এক পর্যায় ধাক্কা লেগে ঘরের দরজার সাথে আঘাতে বুকের ব্যাথায় পানি পান করেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আকি। গত ১১ জুলাই যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় এই ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সুফিয়া বেগম। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
আসামি সুফিয়া বেগম ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীরদরগাহ-মল্লিকপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী।
সুফিয়া বেগম জানিয়েছেন, ২২ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে আকিকুল ইসলাম আকির সাথে। আকি পেশায় ফলে ব্যবসা করলেও মাঝেমধ্যে সুফিয়ার কাছে আসতেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক হলেও বিয়ে না করে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক করেন আকি। আজ-না কাল বলে ঘুরানোর পরে গত ৯ জুলাই রাতে সুফিয়ার যশোরস্থ রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মডেল মসজিদের পিছনে আব্দুর রাজ্জাকের ভাড়া বাসায় আসেন আকি। সেখানে এসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার এক পর্যায় সুফিয়ার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান আকি। কিন্তু বিয়ে না করে কালক্ষেপণ করায় শারীরিক সম্পর্কে রাজি নয় সুফিয়া। ফলে আকি জোর করলে সুফিয়ার ধাক্কা লেগে ঘরের দরজার পাশে আঘাত লেগে কপালে কেটে যায়। এরপরই বুকের ব্যাথা শুরু হয় আকির। এরইমধ্যে পানি পান করতে চান। সুফিয়া তাকে পানি পান করানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। সাথে সাথে আকির বাড়িতে মোবাইল করে জানান সুফিয়া। এরইমধ্যে খবর পেয়ে থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার কওে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে আসল রহস্য উদ্্ঘাটনের জন্য চেষ্টা করে পুলিশ। সন্দেহ হয় সুফিয়াকে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে। সেখানে নেয়ার পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন সুফিয়া। এরই মধ্যে ১০ জুলাই রাতে নিহত আকিকুল ইসলাম আকির প্রথম স্ত্রী মনিরা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। গত ১১ জুলাই সুফিয়াকে ওই মামলায় আদালতে সোপর্দ করেন তদন্ত কর্মকর্তা গেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই নুর ইসলাম। আদালতেও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সুফিয়া বেগম।
এদিকে এই ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জানিয়েছেন, তার স্বামী ঝিকরগাছা বাজারে ফলের ব্যবসা করেন। ঘটনার দিন ৯ জুলাই রাত ৮টার দিকে বাড়ির সামনে আব্দুল্লাহর চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিলেন আকি। ওই সময় তার মোবাইলে একটি কল আসলে সেখান থেকে দ্রুতই চলে যান। রাতে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। কিন্তু গভীর রাত সাড়ে তিনটার দিকে অজ্ঞাতনামা একটি নম্বর থেকে মনিরার ব্যবহৃত মোবাইলে কল আসে। এসময় তাকে জানানো হয় যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়া মডেল মসজিদের পিছনে তার স্বামী আকির লাশ পড়ে আছে।
