নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশ ও বিশ্বের ইতিহাস-ঐহিত্য জানতে হলে পাঠ্যবইয়ের বাইরের অনেক বই পড়তে হবে। শিক্ষার্থীরা পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে না পারলে, এ জাতি কখনো কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।
বুধবার যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান যুগের যে চ্যালেঞ্জ সেটি মোকাবিলার জন্য শুধু একটি বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না। পাঠ্য বইয়ের বাইরের অনেক বই পড়ার পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতাও বাড়াতে হবে। যবিপ্রবির একটি লাইব্রেরি রয়েছে। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতাও আছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে তারা যে বইয়ের কথা বলবে, সেটি যদি বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে আমি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেটি আনার ব্যবস্থা করবো। তবে শর্ত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে যেতে হবে এবং বই পড়তে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বলবো অব্যাহতভাবে মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাবলেটের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা কারোর স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো নয়। এগুলোও প্রয়োজনে অত্যন্ত সীমিত আকারে ব্যবহার করতে হবে, যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়। কারণ নতুন প্রজন্মের হাতেই আগামীর ভবিষ্যৎ। কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মতো শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক এ ধরনের কর্মসূচি আরও নেয়া হবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ^স্ত করেন তিনি।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক ড. আলম হোসেনের সভাপতিত্বে কুইজ প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মেহেদী হাসান, কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২২ এর আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, দফতর প্রধানসহ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচারক এস এম সামিউল আলম।
যবিপ্রবির ২৪টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগতভাবে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগ এবং রানার্স-আপ হয় ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (এফএমবি) বিভাগ। এছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ যশোরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বিজয়ীদের উপহার হিসেবে মহামূল্যবান বই, ক্রেস্ট এবং সনদ প্রদান করা হয়।