আমরা যেন আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের যে ঘটনা ঘটছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। গৃহবধূ থেকে স্কুলের ছাত্রী ও শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণের হররোজের যে চিত্র তা তুলে ধরা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদ চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১০৬ কন্যাশিশু নির্যাতন এবং ১৬৬ জন নারী নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাসহ ২৭২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়। প্রতিবিদনে অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সীদের কন্যাশিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে মহিলা পরিষদ বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে মোট ২৭২ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন সবচেয়ে বেশি ৭০ জন। এরপরই রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হয়েছে ৪৭ জন। এছাড়া জানুয়ারি মাসে হত্যা করা হয়েছে ৪৪ জন নারী ও শিশুকে। ১৮ জন নারী ও শিশুকে হত্যার চেষ্টা কর হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে পাঁচ কন্যাশিশুসহ ১০ জনকে। আর এক কন্যাশিশুসহ তিনজন শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কি। এসব ঘটনায় প্রমাণ হয় আমাদের সমাজ অসুস্থ হয়ে গেছে। এটা সভ্য সমাজের লক্ষণ নয়। আমাদের সমাজের কোনো একটা জায়গায় রোগ হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে গেছি আমরা সবাই।
এক একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে আর বিভিন্ন জনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে পত্র-পত্রিকায়। আর এ সব দেখে ধর্ষিতা এবং ধর্ষিতাদের স্বজনদের হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছুই থাকছে না। সামাজিক ব্যবস্থার কারণে তাদেরকে সারা জীবন কলঙ্কের ডালি বয়ে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
এই যখন অবস্থা তখন বিজ্ঞজনেরা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এসব অপরাধের বিচার করতে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কারণ প্রত্যেক ঘটনায় জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তার একমাত্র পরিচয় সে ধর্ষক, নিপীড়নকারী, নির্যাতনকারী। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই আমাদের দেখা উচিত।
বিভিন্ন সময় ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন কম হয়নি। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড আইন পাস হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই থামছে না এ অপরাধ। ধর্ষকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কেন এমনটি হচ্ছে তা সমাজ বিজ্ঞানীরা ভালো বলতে পারবেন। সরকার ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড আইন পাস করে প্রশংসিত হয়েছে। এমন একটি কঠোর আইন দেশে জরুরি ছিল। কিন্তু এখনো ধর্ষকরা নির্ভয়ে এই জঘন্য অপরাধটি একের পর এক করেই যাচ্ছে। অপরাধীরা যেন আষ্কারা পাচ্ছে। অপরাধ ঘটাতে দুর্বৃত্তরা সাহস পাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মর্মযাতনা উপলব্ধি করে এই পাইকারী ধর্ষণের বিরুদ্ধে আরো কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সে চিন্তা সমাজ বিজ্ঞানী, সরকার, রাজনীতিক সমাজসেবী সবাইকে ভাবতে হবে। এ ভাবে কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না। অব্যাহত এ অপরাধের কারণে একদিন দেখা যাবে এ জাতি অসভ্য জাতির কলঙ্ক তিলক ললাটে উঠেছে।