ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: জমি বিক্রির পাওয়ানা টাকা চাইতে গিয়ে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন এক দম্পত্তি। টাকা দেয়ার কথা বলে বাড়িতে জিম্মি করে ওই দম্পত্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করেন ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পূর্বপুরন্দপুর গ্রামের কেএম সালাহ উদ্দীন। তিনি উল্লেখ করেন, তার শাশুড়ি শাহানুর নেছাসহ অন্যরা কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর মৌজার ২৪০ আর এস খতিয়ানভূক্ত ২১১ শতক জমি বিক্রি করেন। ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্য ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। বাকি ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার জন্য চেক প্রদান করেন। বিশ্বাসের কারণে শাহানুর নেছা টাকা বাকি রেখেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এদিকে জমি রেজিস্ট্র্রি হওয়ার পর চেক ফেরৎ দিয়ে বাকি টাকা নিয়ে যেতে বলেন জমি ক্রেতা। সে মোতাবেক গত ৫ অক্টোবর চেক ফেরত দিয়ে টাকা নেয়ার জন্য জমি বিক্রেতাদের বাড়িতে ডাকেন। দাদাপুর গ্রামে উপস্থিত হলে জমি বিক্রেতাদের হাতে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে চেক ফেরৎ নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে চেকটি ছিড়ে ফেলেন। চমর বিশ্বাস ভঙ্গের এ ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন জমি বিক্রেতারা। এরপর তাদের বলা হয় চেক বইতে কোন পাতা নেই। ব্যাংক হতে চেক তুলে আমাদের পরে দিবেন। টাকা ও চেক না দিলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে না চাইলে তাদের ঘরের মধ্যে আটকিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকাও জোরপুর্বক ছিনিয়ে নেন এবং পূর্ব পরিকল্পনা মতে অভিযোগকারীর শিশু সন্তানকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর বিবাদীর স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রবধূ আমাদের শিশু সন্তান সাফায়েতকে খুন করার হুমকি দিয়ে বলে, বেশি চেচামেচি করলে খুন করে ফলবো। শিশু সন্তানকে খুনের ভয়ে তারা এক সময় চুপ হয়ে যান। কিছু সময় পরে বিবাদীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে ও কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ করার পর থেকে মোবাইলে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিচ্ছেন। এতে তারা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী শাহানুর নেছা, ইদ্রিস আলী, মেহেনুর নেছা, সুমাইয়া ইসলাম ও তমা খাতুন প্রমুখ।