নিজস্ব প্রতিবেদক
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন যশোরের পুলিশ সদস্যরা। গতকাল ৭ আগস্ট পুলিশ লাইন্স যশোরে এই দাবি বাস্তবায়নে নানা শ্লোগানে উত্তাল করে পুলিশ লাইন। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ লাইনে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য শোনেন।
পুলিশ সদস্য এএসআই বাবুল আকতার, জাহিদুল ইসলাম, শুভেন্দু কুমার পাল, নায়েক আলী আজগর, কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম, সাগর হোসেন, সজিব কুমার দে ও রিপন বিশ^াস জানিয়েছেন, সম্প্রতি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহু পুলিশ সদস্য হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যদিও ছাত্র আন্দোলনে সরকারের অন্য বাহিনীর গুলিতেও অনেক ছাত্র নিহত হয়েছে। কিন্তু সব দায় পুলিশের কাঁধেই চাপানো হয়েছে। এতে আন্দোলনরত ছাত্র ও সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকেই গালমন্দ শুনতে হচ্ছে। এর ফলে কোন পুলিশ সদস্য কোথাও দায়িত্ব পালনে গেলে বিনা কারণেই তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এসকল ঘটনায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা (বিসিএস ক্যাডার) বিষয়টি এড়িয়ে চলছেন। নিহত ও আহত পুলিশ সদস্যদের কোন খোঁজখবরই নেননি তারা। সে কারণে মাঠ পর্যায়ে কোন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনে জীবনের নিরাপত্তা পাচ্ছেন না।
পাশাপাশি পুলিশের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা সরকারি অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকলেও মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের কিছু দেয়া হয় না। সে কারণে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বিসিএস ক্যাডারদের কাছে ১১ দফা দাবি নিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন। ১১ দফা হলো, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন এবং পুলিশ বাহিনীকে সংস্কার করে জনগনের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। পোষাকের রঙ পরিবর্তন করে ড্রেস কোড অনুযায়ী আইজিপি পর্যন্ত একই রঙের হতে হবে। পুলিশ সদস্যদের হত্যার বিচার ও নিহতদের পরিবারে কমপক্ষে একজনকে সমপদে চাকরি দেয়াসহ ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। লোভী পুলিশ সদস্যদের অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তায় যে সকল পুলিশ সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ বা হয়রানি করা যাবে না। সকল পুলিশ সদস্যদের শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা করতে হবে। এর বেশি সময় দায়িত্ব পালন করলে ওভার টাইম বিল হিসেবে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটির পাশাপাশি দুই মাস অর্জিত ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেক পুলিশ সদস্য নিজ জেলায় বদলি ও উর্ধ্বতদের মত পদায়নসহ আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সকল পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের চিকিৎসা করানো এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মত অধস্থন সদস্যদের বিভাগীয় পরীক্ষা একবারই হতে হবে। পোস্টিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টরদের পিএসসির অধীনে নিয়োগ দিতে হবে। এসআই ও এএসআইদের মতো সার্জেন্ট এবং এটিএসআইদের তদন্ত ক্ষমতা দেয়াসহ ট্রাফিক পুলিশের মামলার টার্গেট দেয়া বন্ধ ও রেকার বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। পুলিশ কমিউনিটি ব্যাংক থেকে সকল কল্যাণ তহবিলের হিসাব প্রতি বছর দিতে হবে এবং লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে আনতে হবে। নবম থেকে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের মধ্যে পদোন্নতি নিশ্চিত করা অন্যতম।
এদিন কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম সিদ্দিক, বেলাল হোসাইন, ফিরোজ কবীর, জুয়েল ইমরান, পুলিশ লাইনের আরআই নুরুল ইসলাম, ফোর্স সুবেদার অলোক কুমার উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্স গেট থেকে ব্যারাক পর্যন্ত মিছিল সহকারে গিয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ও আহত সকল পুলিশ সদস্য এবং আন্দোলরত ছাত্র রুহের মাগফেরাত কামনা এবং সঠিক বিচার দাবি করেন।
পুলিশ সুপার আরো বলেছেন, সব গুলো দাবি যৌক্তিক। কিন্ত এ গুলো বাস্তবায়ন করার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার ব্যবস্থা নেবে। নতুন মহাপরিদর্শক নিয়োগ পেয়েছেন। তার কাছে প্রস্তাব গুলো পাঠানো হবে। তিনি নিশ্চয় পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর জন্য উদ্যোগ নেবেন।
