কল্যাণ ডেস্ক: গুরুতর মানসিক সমস্যা সিজোফ্রেনিয়া। তবে এ রোগ মানেই জীবন একেবারে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সময়মতো শনাক্ত করতে পারলে চিকিৎসাও সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সেন্টার ফর সাইকোট্রমাটোলজি অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক ডা. ইসমাইল আজহারি।
সিজোফ্রেনিয়া রোগে আমাদের দেশে অনেকেই আক্রান্ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগটা থেকে যায় শনাক্তের বাইরে। সিজোফ্রেনিয়া একটি গুরুতর মানসিক সমস্যা। এর পাঁচটি সাধারণ উপসর্গ আছে।
ডিলিউশন
এটি হলো নিজেকে নিজে এক ধরনের মিথ্যা প্রবোধ দেওয়া। যেমন, কেউ বিশ্বাস করে বসল সে অনেক বড় সেলিব্রেটি এবং কেউ না কেউ তাকে সারাক্ষণ অনুসরণ করছে। একে পারসিকিউটরি ডিলিউশন বলে।
কিংবা কেউ যদি বিশ্বাস করে যে তিনি যা ভাবছেন তা আসলে আরেকজন নিয়ন্ত্রণ করছে, তবে একে বলে ডিলিউশন অব কন্ট্রোল। এ ক্ষেত্রে রোগী বিশ্বাস করতে শুরু করে রাত হলে আমার কাছে এমন কেউ আসে, যে সব ঠিক করে দিচ্ছে—আমি কী করব, কী খাব না খাব ইত্যাদি।
ডিলিউশন অব গ্র্যান্ডিওজ হলে রোগীর ভেতর এমন বিশ্বাস জন্মায় যে তিনি নিজেকে দেশের বিরাট হর্তাকর্তা ভাবতে শুরু করেন। তিনি মনে করেন, আশপাশের সবাই তার ভক্ত ও সবাই তাকে আইডল মানে।
হ্যালুসিনেশন
এ ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে অস্বাভাবিক উপলব্ধি তৈরি হয়। রোগী অনেক কিছু শুনতে পাবেন এবং সেই কাল্পনিক শব্দে সাড়াও দেবেন। সামনে থাকা সুস্থ ব্যক্তির কাছে মনে হবে, রোগী বেশ স্বাভাবিকভাবেই অদৃশ্য কারো সঙ্গে কথা বলছেন।
ডিসঅরিয়েন্টেড স্পিচ
ডিসঅরিয়েন্টেড স্পিচের মানে অসংলগ্ন কথাবার্তা। রোগী তার স্বাভাবিক কথাবার্তা বলার ক্ষমতা হারাবেন। রোগী নিজের সক্ষমতার তুলনায় বড় কিছু অর্জনকে সম্ভব ভাববেন। যেমন রোগী যদি নিম্নবিত্ত হয়ে থাকেন, তবে তিনি বলতে পারেন, আগামী মাসেই ১০ তলা বাড়ির কাজে হাত দেব কিংবা তিন মাসের জন্য বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছি সপরিবারে।
অসংলগ্ন আচরণ
এ ক্ষেত্রে রোগী আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। সেটা নিজের বা অন্যের সঙ্গেও হতে পারে। আবার অনেকে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। যেমন রোগী খেতে বসে পাশের শূন্য চেয়ার দেখিয়ে বলছে, এই খাবারটুকু রেখে দিলাম তোমার জন্য।
নেতিবাচক আচরণ
এ ধরনের রোগীরা কিছুটা অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েন। দেখা গেল কাছের কেউ মারা গেলেও তার মধ্যে ভাবান্তর নেই। আবার কোনো সুখবর পেলেও দেখা যাবে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না। এ ক্ষেত্রে রোগীর ঘুম কমে যাবে, কাজে আগ্রহ কমবে, যৌন ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং তিনি সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে চাইবেন।
উপসর্গগুলো দেখা দিলেই রোগীর দ্রুত চিকিৎসার দরকার। যদি রোগী নিজেই নিজের সমস্যা বুঝতে পারে, তবে সেটা হলো নিউরোসিস। এর চিকিৎসা দ্রুত করা সম্ভব। আর সমস্যা টের না পেলে সেটাকে বলে সাইকোসিস।
বয়োঃসন্ধিকালের পর যে কোনো বয়সেই হতে পারে সিজোফ্রেনিয়া। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও এটি দেখা দিতে পারে। বংশগত কারণেও এ রোগ হতে পারে।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে হাসি-ঠাট্টা না করে রোগীর সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন। তাকে মানসিক সাপোর্ট দিন। বিশেষ করে আশপাশের কেউ হঠাৎ নীরব হয়ে গেলে কিংবা তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলেই সতর্ক হোন। দ্রুত পরামর্শ নিন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এ ধরনের রোগীর মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।