নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে স্বর্ণের কারিগর আল আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন সৌরব হোসেন তুষারকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্প। মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দুইজন সন্দেহভাজন আটক হলেন।
রোববার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর সদর উপজেলার রাজারহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের মতো শহরের চৌরাস্তা মোড়ের স্বর্ণপট্টিতে নিজের দোকানে যান আল আমিন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে জানান, একজন অসুস্থ হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। এ খবর পেয়ে আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে বারান্দীপাড়া লিচুতলার উদ্দেশে বের হন। এরপর তিনি আর দোকান কিংবা বাড়িতে ফেরেননি।
ওই দিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আল আমিনকে হত্যা করে বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। পরে লিচুতলা মাদ্রাসার পেছনের একটি মেহগনি বাগান থেকে গলা কাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা আয়শা বেগম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এর আগে শনিবার শহরের মনিহার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের অপর সন্দেহভাজন আসামি ব্ল্যাক আল-আমিনকে আটক করে পুলিশ। তিনি শহরের সিটি কলেজপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের দাবি, তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আল আমিন হত্যাকাণ্ডে তুষারের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তুষারকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
