নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন সংক্রান্ত যে নির্বাচন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল তা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হলো।
যে পর্যায় থেকে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত করা হলো সেই পর্যায় থেকে আবারও নির্বাচন কার্যক্রম শুরু হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে যে খসড়া ভোটার তালিকা সরবরাহ করা হয়েছিল তা পূর্ণাঙ্গ না। এজন্য নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা পেলে আবার কার্যক্রম শুরু করবো।
একটি সূত্রে জানা গেছে, বিগত কমিটি গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ৬২টি ক্লাবকে অ্যাফিলিয়েশন দেয়। স্থগিত হওয়া খসড়া ভোটার তালিকায় সেই ক্লাব গুলোর প্রতিনিধির নাম ছিল। সর্বশেষ নির্বাচনে অংশ নেয়া আসাদুজামান মিঠুর নেতৃত্বাধীন প্যানেল ভোটার তালিকা থেকে ৬২ ক্লাবকে বাদ দেয়ার জন্য যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। মূলত এ আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় হতাশ জেলার ক্রীড়া সংগঠকরা। জটিলতা দূর করে দ্রুত নির্বাচন চাই তারা।
স্থগিত হওয়া তফশিলে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া এজেডএম সালেক নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় হতাশ। তিনি বলেন, দ্রুত নির্বাচন না হলে ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে পড়বে। তাতে খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। জটিলতা দ্রুত দূর করে সবাইকে নিয়ে নতুন তফশীলে নির্বাচন চান এ ক্রীড়া সংগঠক।
এ বিষয়ে আসাদুজামান মিঠু বলেন, সদ্য বিলুপ্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা প্রণীত অবৈধ কাউন্সিলয়ের মাধ্যমে গঠিত ভোটার তালিকা বাতিল করে গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২৬ যথাযথভাবে অনুসরণ করে নতুন কাউন্সিলগণের মাধ্যমে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে ফের তফশিল ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করি। প্রশাসন সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচত স্থগিত করেছে। এজন্য তিনি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। সেই সাথে তিনি সবপক্ষকে নিয়ে গঠনতন্ত্রের আলোকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানান।
সর্বশেষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলেন, বর্তমানে এডহক কমিটির হাতে দায়িত্ব রয়েছেন। ওনারা যা বলছে তাই আমরা শুনছি। এখন যদি প্রশাসন ভোট করায় ভোট করবো। ৬২ ক্লাবের অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ক্লাবগুলোকে অনুমোদন করা হয়েছে।
