নিজস্ব প্রতিবেদক
‘বৈষম্যবিরোধী সংখ্যালঘু ছাত্র আন্দোলন’ যশোরের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেল ৩টায় যশোর শহরের কোতয়ালি মডেল থানার সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল চিত্তরঞ্জন সড়ক (রেল রোড) হয়ে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে এসে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়। এ সময় ছাত্র-জনতা শ্লোগানে শ্লোগানে প্রকম্পিত করে তলে সমাবেশ স্থল।
দেশে চলমান পরিস্থিতিতে হিন্দুদের উপর বর্বরোচিত হামলা, নির্যাতন, মঠ-মন্দির, ঘর-বাড়ি ভাঙচুরে, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, জমি দখলসহ সকল অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়।
মিছিল শুরু আগে থানার সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অর্ঘ শ্রেষ্ঠ দাস, আদিত্য অধিকারী, সৌরভ বিশ্বাস, কাজল মণ্ডল প্রমুখ।
তারা বলেন, হামলা বন্ধ, হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচার, হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও বাস্তুহারাদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কয়েক হাজার ছাত্র- জনতার অংশগ্রহণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছাত্ররা অবিলম্বে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠনসহ ৮ দফা দাবি জানান। বক্তারা বলেন, যশোরের বিভিন্ন উপজেলাসহ দেশের নানা জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মন্দিরসহ বসতবাড়িতে ভাঙচুর করা হচ্ছে। সম্পদ লুট করা হচ্ছে। আর প্রশাসন এ অবধি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় লুটপাট, হামলার ঘটনা বেড়েই চলছে।
বক্তারা আরো বলেন, প্রয়োজনের সময় কিংবা দেশের স্বার্থে অন্য সবার সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা সমান তালে এগিয়ে যায়। তখন আমরা বাংলাদেশর নাগরিক হলেও এখন আমরা সংখ্যালঘু, তাই আমাদের ওপর নির্যাতনের খড়গ নেমে এসেছে। কিন্তু স্বাধীন দেশে বারবার এই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চায় না। আমরা অনতিবিলম্বে সকল হামলার বিচার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। তারা আরও বলেন, আজ আমাদের অজানা আতঙ্কে বসতবাড়ি, এলাকার নিরাপত্তায় রাতভর পাহারা দিতে হচ্ছে। এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি চাই এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে চাই।
