নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে। ফলে নতুন করে সামনে এসেছে প্রশ্ন—গাজী নজরুল ইসলাম এখন কোন দলের এমপি?
জামায়াতে ইসলামী বলছে, বহিষ্কারের পর তিনি আর দলের কেউ নন। অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, তিনি এখনো কাগজে-কলমে জামায়াতের সদস্য এবং নিজেকে জামায়াতের এমপি হিসেবেই মনে করেন।
ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক স্খলন’-এর অভিযোগ তোলে জামায়াতে ইসলামী। এরপর গত ২২ জুলাই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনেও চিঠি পাঠায় দলটি।
তবে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বাতিল হয়নি।
দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। তাঁর ভাষ্য, দল তাঁকে বহিষ্কার করলেও তিনি এখনো কাগজে-কলমে জামায়াতের সদস্য।
তিনি বলেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তাঁর সদস্যপদ এখনো রয়েছে এবং তিনি নিজেকে জামায়াতের সদস্য হিসেবেই মনে করেন।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল আর দলের কেউ নন। দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে প্রয়োজনীয় চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
দলীয় বহিষ্কারের প্রভাব ইতোমধ্যে সংসদীয় কার্যক্রমেও দেখা গেছে। গত ১৮ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ তিনি ওই কমিটির একজন সদস্য।
কমিটির সভাপতি জানিয়েছিলেন, জামায়াত তাঁকে না চাওয়ায় বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
পরে সরকারি প্রতিশ্রুতি কমিটিতে তাঁকে রাখার বিষয়েও সংসদে বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের আপত্তির পর শেষ পর্যন্ত ওই কমিটি থেকেও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়।
গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন এখন তাঁর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে।
শুধু কোনো রাজনৈতিক দল কোনো সংসদ সদস্যকে ‘নৈতিক স্খলন’-এর অভিযোগে বহিষ্কার করলেই তাঁর এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়—এমন বিধান সংবিধানে নেই। সংসদ সদস্য পদে অযোগ্যতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত শর্ত রয়েছে।
এ কারণেই দলীয় বহিষ্কারের পরও গাজী নজরুল ইসলামের আসনটি এখনো শূন্য হয়নি।
বর্তমানে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানা যায়নি। জামায়াতে ইসলামীর চিঠির পরও স্পিকার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির বক্তব্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ইসলাম দল থেকে বহিষ্কৃত। তিনি বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সংবিধান অনুযায়ী শুধু বহিষ্কারের কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ হারানোর বাধ্যবাধকতা নেই।
দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এর আগে আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল।
২০১৪ সালে বিতর্কিত মন্তব্যের পর আওয়ামী লীগ তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে এবং তাঁর এমপি পদ বাতিলের সুপারিশ করে স্পিকারকে চিঠি দেয়। পরে ২০১৫ সালে লতিফ সিদ্দিকী নিজেই সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সবকিছু মিলিয়ে বর্তমান চিত্র হলো—গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত, কিন্তু তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল। জামায়াত তাঁকে নিজেদের সদস্য বা এমপি হিসেবে স্বীকার করছে না। আবার গাজী নজরুল নিজেকে এখনো জামায়াতের সদস্য বলে দাবি করছেন।
ফলে আপাতত তিনি দলীয় পরিচয়হীন সংসদ সদস্য হিসেবেই সংসদে রয়েছেন—তবে তাঁর আসন ও চূড়ান্ত দলীয় পরিচয় নিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই পরবর্তী অবস্থান পরিষ্কার করবে।
