নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের খোলাডাঙা কদমতলা মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী রাশেদ খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে মঙ্গলবার সকালে সেখানে যান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ খানের বাড়ির পাশেই অভিযুক্তদের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিবেশী মনা, ইমন, জুলি খাতুনসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে তাদের বাড়ির সংলগ্ন দোকানের সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাশেদ খানের দাবি, গালিগালাজে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একই সঙ্গে তার দোকান ও বসতবাড়ির প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন ধারালো কুড়াল নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে রাশেদ ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে যশোরে পৌঁছে সরাসরি রাশেদ খানের বাড়িতে যান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অন্যায়কারী যেই হোক, কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।” তিনি প্রশাসনকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মনা ও অন্যরা পলাতক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
