২৫ লাখের বেশি আসনের বিপরীতে আবেদন ৯ লাখ ৯৫ হাজার; ১৬ সেপ্টেম্বর ফল, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্লাস শুরু
অনলাইন ডেস্ক
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে এবার তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। দেশের কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন রয়েছে ২৫ লাখের বেশি। অথচ ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে মাত্র প্রায় ৯ লাখ ৯৫ হাজার শিক্ষার্থী। ফলে সব আবেদনকারী ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম ধাপের ফল আগামীকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪টি। অর্থাৎ এসএসসি ও সমমানে উত্তীর্ণ হয়েও প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়ায় আবেদনই করেনি।
শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছে।
ফলের পর যেসব সময়সীমা
আগামীকাল প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম ও আসন খালি থাকার ভিত্তিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে। ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন কমছে কলেজমুখী শিক্ষার্থী?
এবার একাদশে ভর্তির আবেদনে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিলেও এর প্রভাব দেশের সব কলেজে সমান নয়। রাজধানী ও বড় শহরের নামি কলেজগুলোতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দের আসন নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে। বিপরীতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক কলেজে শিক্ষার্থী পাওয়া নিয়েই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। স্থানীয় কলেজে মানসম্মত শিক্ষার অভাব, ভালো শিক্ষার আশায় শহরমুখী প্রবণতা, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, মাধ্যমিকের পর কর্মজীবনে প্রবেশ এবং মেয়েদের বাল্যবিয়ের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া—এসব বিষয় এর অন্যতম কারণ।
এ ছাড়া মফস্বলের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশের ঘাটতিও কলেজে শিক্ষার্থী কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, মানসম্মত শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য ও বাল্যবিয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রধান কারণ।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী ঝরে পড়া কমাতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এবারও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি সম্পন্ন হচ্ছে। মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য উন্মুক্ত এবং ৭ শতাংশ কোটা হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।
তবে বিপুলসংখ্যক আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় দেশের অনেক কলেজে শিক্ষার্থী সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামীকালের ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে—কোন কলেজে শিক্ষার্থীদের চাপ কতটা এবং কোথায় আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা বেশি।
